উখিয়ায় ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২১:২৩

উখিয়ায় ব্যস্ততম সড়কে বাড়ছে ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বেপরোয়াগতিতে এসব ইজিবাইকের চলাচলের কারণে উদ্বিগ্ন পথচারী ও গ্রাম-গঞ্জের বাসিন্দারা। রাস্তার মাঝখানে গাড়ি ঘোড়ানো, যত্রতত্র পার্কিং ও অদক্ষ চালকের কারণে এসব যানবাহনে বাড়ছে দুর্ঘটনা। কোনো প্রকার নিয়ম-নীতি না মেনেই এসব ইজিবাইক সড়কে চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, মরিচ্যা পাতাবাড়ি সড়ক, কোট বাজার সোনার পাড়া সড়ক, উখিয়া সদর স্টেশন জামে মসজিদের সামনে হাজির পাড়া রোড, ডাক-বাংলো পাতাবাড়ি সড়ক, কুতুপালং লম্বাশিয়া সড়ক, থাইংখালী তাজনিমার খোলা সড়কসহ উখিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ২ শতাধিক স্পটে ইজিবাইক পার্কিং করা হচ্ছে। পার্কিংস্থলে দায়িত্বরত কথিত লাইনম্যানরা এসব থেকে চাঁদা আদায় করে গাড়ির সিরিয়াল দিচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। আবার এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সড়কের উপর দুই-তিনজনকে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে। ভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, এসব ইজিবাইক থেকে প্রতি মাসে পাঁচশত টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়।

আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহনের নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, এসব ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে গত দুই মাসে বেশ কয়েকজন পথচারী ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক।

উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সড়কে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক ইজিবাইকের রং ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। ইউএনও বলেন, গাড়িগুলো ইউনিয়নভিত্তিক রং করা হলে এক ইউনিয়নের ইজিবাইক অন্য ইউনিয়নে সহজে আসা-যাওয়া করতে পারতো না।

উখিয়ার ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. শাহজাহান বলেন, ইজিবাইকের কারণে বোরো মৌসুমের শুরু থেকে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের নিয়ন্ত্রণে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের দুই-তৃতীয়াংশ ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জিংয়ে চলে যাচ্ছে। সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পল্লীবিদ্যুত্ চলমান শুষ্ক মৌসুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোড শেডিং করছে।

পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আনিচুর রসুল জানান, শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা অনুপাতে জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে বিদ্যুত্ সরবরাহ না পাওয়ার কারণে লোড শেডিং করতে হয়।