আর কত বছর বয়স হলে ভাগ্যে জোটবে হামার বয়স্ক ভাতা, এমনটাই প্রশ্ন এদের তিনজনের। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে ভিক্ষা বৃত্তি করে চলে তাদের জীবন সংগ্রাম। উপোষ থাকাটাই তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। অন্যের বাড়ির খাবারের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়। এ বাড়ি ওবাড়ি ঘুরে দুই মুঠো ভাত জোটলেও জোটেনা ভাল তরকারি। অন্যের বাড়ির খাবার না এলে থাকতে হয় তাদের উপোষ। কষ্টের শেষ নেই এ বয়সে তাদের। সংবাদকর্মীদের পেয়ে এভাবেই জীবন সংগ্রামের কাহিনী বর্ণনা করেন তিনজন। এরা হলেন, মফিজ উদ্দিন (৯৯), আছিয়া খাতুন (৮০) ও জাহেদা বেওয়া (৯৫)।
মফিজ উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২ সংলগ্ন এলাকায়। তার জাতীয় সনদ অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৯২৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। সে অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৯৯ বছর।
তিনি বলেন, স্ত্রী জমিলা খাতুনকে নিয়ে তিনি ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে শত কষ্টের মাঝে তিনি মৃত্যুর প্রহর গুণছেন।
তিনি ইত্তেফাককে জানান, বয়স্ক ভাতা ও ভিজিডি থেকে শুরু করে কোনো সাহায্য সহযোগিতাই জোটেনি তার ভাগ্যে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আর কত বছর বয়স হলে, মুই বয়স্ক ভাতা পাইম (পাব)।’
আছিয়া খাতুনের বাড়ি একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামে। ভিক্ষা বৃত্তির জন্য অনেক কষ্ট করে লাঠিতে ভর করে এসেছেন বারঘড়িয়া গ্রামে। এ সময় দেখা হয় এ প্রতিনিধির সঙ্গে। তার স্বামী মফিজ উদ্দিন প্রায় আট বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও ছেলেরা কেউই তার খোঁজ খবর রাখেন না।
তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বাবা মুই আজ কচু দিয়ে একনা ভাত খাইছোং’ মুই আর হাঁটতে পাওনা, মোক একনা সাহায্য দেন বাবা।’ তারও ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ত ভাতা।
তার আক্ষেপ, মেম্বার-চেয়ারম্যানকে টাকা দিতে না পারায় তার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা।
জাহেদা বেওয়ার বাড়ি একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের বাড়ির পাশে স্পার সংলগ্ন এলাকায়। স্বামী হাছত আলী মারা গেছেন অনেক আগে। চার ছেলে-মেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ খবর রাখেন না তার। তার জায়গা হয়েছে রাস্তার ধারে একটি ছনের ছাউনি ঘরে। ভিক্ষার জন্য ছুটে এসেছেন তিস্তা নদী পেরিয়ে চর গোবর্দ্ধন গ্রামে। তিনি জানান, তিস্তা নদীর হামার সউগ নিয়ে গেছে। বাবা মোর শরীর চলে না, তোমরা মোক একনা খাবার দেন। এ কথা শুনে একজন সংবাদকর্মী তার হাতে ৫০ টাকার একটি নোট তুলে দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘শেষ বয়সেও মোর ভাগ্যে কি বয়স্ক ভাতা জুটবে না?’
মহিষখোচা ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্যরা তাদের তিনজনের বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে পারতেন। বিষয়টি সর্ম্পকে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।’
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, ‘বয়স্ক ভাতার কার্ড হয়নি তাদের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনজনের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
