বিভিন্ন স্থানে হানাদার মুক্ত দিবস আজ

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ১০:০৩
 
আজ ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা এদিন বিজয় পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করে শত্রুমুক্ত অঞ্চলগুলোতে। দিবসটি উপলক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
 
মাদারীপুর ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর জেলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের সমাদ্দার নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধা ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে টানা ৫২ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তত্কালীন খলিল বাহিনীর প্রধান খলিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা এ সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়। এ সময় ৮ম শ্রেণির ছাত্র সরোয়ার হোসেন বাচ্চু হানাদারদের হাতে শহীদ হন।
 
রায়পুরা (নরসিংদী) আজ ১০ ডিসেম্বর রায়পুরা হানাদার মুক্ত দিবস। সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যদের পরাজিত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ায়। তত্কালীন রায়পুরার অন্তর্ভূক্ত বর্তমান বেলাবো উপজেলার উজিলাব গ্রামের আঃ হাইয়ের বাড়ীটি মিনি ক্যান্টনম্যান্ট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায় এবং আঃ হাই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মেজর হাই নামে পরিচিতি পান। ঢাকা থেকে আগত তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পুলিশের লোকজন এখানে সমবেত হন। ১৮ই অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ের মির্জানগর ইউনিয়নের বাঙ্গালীনগরে অবস্থিত ৫৫নং রেলসেতুতে দুই ঘন্টাব্যাপী যুদ্ধ হয়। এতে ৬ জন পাকিস্তানি সেনা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয়। এছাড়াও ৩৩ জন শত্রুসেনা আত্মসমর্পণ করে। ৭ নভেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সম্মুখ রণাঙ্গনে প্রচন্ড যুদ্ধ করে শহীদ হন অনেকে। দীর্ঘ ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবশেষে ১০ ডিসেম্বর মুক্ত হয় রায়পুরা।
 
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)  ১৯৭১ সালের আজকের দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় মুক্তাগাছা। পাকিস্তানি বাহিনী ’৭১ এর ২৩ এপ্রিল জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মুক্তাগাছায় প্রবেশ করে। সেদিন শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে জীপ ও ট্রাকের এক বিশাল কনভয় নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তাগাছা দখল করে।
 
শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলি বর্ষণ, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগে শহীদ হন অনেকে। যুদ্ধকালীন রফিজ উদ্দিন, ডা: বাবর আলী, জবেদ আলী ও আব্দুর রাজ্জাক এই ৪টি কোম্পানী পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিল । অপরদিকে মকবুল হোসেন পাবনা ও টাঙ্গাইল এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি কোম্পানী গঠন করে। মুক্তিযোদ্ধারা খতম করে বহু রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যকে। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তাগাছাকে মুক্ত করেন।