বৈষম্যহীন সমাজ গঠনই ছিল স্বাধীনতার লক্ষ্য

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২২:১৬

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য। কিন্তু আজ সমাজে ন্যায়বিচার দেখা যাচ্ছে না। এটা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় অন্তরায়। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ৭৫-এর পর নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে বারবার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। সূর্যহীন পৃথিবী যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনই বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশও চিন্তা করা যায় না। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে স্বাধীনতা এত সহজে আসেনি। বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন বলে সব নির্বাচনে অংশ নিতেন।

আলোচনা সভায় ১৪ দলের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক   দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক শ্রেণি, আরেকদিকে শোষিত সমাজ, আমি শোষিতের পক্ষে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আজ আমরা দেখছি সাধারণ মেহনতি কৃষক শ্রমিক শোষিত হচ্ছে। স্বাধীনতার মর্মবস্তু হচ্ছে নাগরিকদের নিরাপত্তা, অর্থনীতির বিকাশ ও অধিকারের নিশ্চয়তা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করতে হলে লুণ্ঠনের যে প্রতিযোগিতা চলছে সেটিকে নস্যাত্ করতে হবে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী উভয়পক্ষই হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, শুধু একটি ভূখণ্ড, একটি পতাকা ও জাতীয় সংগীতের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল-ব্যক্তি ব্যক্তিকে এবং অঞ্চল অঞ্চলকে শোষণ করবে না। মানুষে-মানুষে বৈষম্য থাকবে না। তিনি বলেন, সমাজে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে। চাটার দলকে প্রতিহত করতে হবে।

জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। দলের নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনের আগে বলা হলো ১৪ দল একত্রে কাজ করবে। মুখে ১৪ দল হলেও কাজে আসলে একদল। এরপরেও যেহেতু আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে সমর্থন করতে পারব না, সেই কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে দেশে অরাজকতা তৈরি হবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাসদের রেজাউর রশিদ খান, জেপি নেতা মোহাম্মদ হোসেন রেনু, খলিলুর রহমান খলিল, সৈয়দ সালাউদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, আমিনুল ইসলাম তপন প্রমুখ।