আওয়ামী লীগের শেকড় জনগণের হূদয়ে প্রোথিত

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৪

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের আন্দোলনে নেতৃত্বদাতা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা হয়েছে। কেউ আওয়ামী লীগকে শেষ করতে পারেনি। কারণ এই আওয়ামী লীগের শেকড় বাংলার জনগণের হূদয়ে প্রোথিত। যারা প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, জনগণের অধিকারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে, তাদের শেষ করা যায় না। আর যারা উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, তাদের গোড়ায় মাটি থাকে না। ক্ষমতা ছাড়া তাদের অস্তিত্বই থাকে না, এটা এখন প্রমাণিত। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় পাকিস্তানিদের দ্বারা বাঙালিদের শোষণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থ দিয়ে তারা মরুভূমিতে ফুল ফুটিয়েছিল, আর আমাদের মরুভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিল। এর বিরুদ্ধেই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম।’

বাকশাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরও নানা ষড়যন্ত্র চলেছে। বাঙালির বিজয় তারা মেনে নিতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হলেও একাত্তরের পরাজিত শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধী এবং মুক্তিযুদ্ধে যেসব দেশ পাকিস্তানকে সহযোগিতা সহযোগিতা করেছিল তাদেরও ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশের সব শ্রেণী- পেশার মানুষকে এক প্লাটফরমে নিয়ে এসে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেছিলেন। অনেকে তাকে বাকশাল বলতেন। এর মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন। ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে ১৯টি জেলার পরিবর্তে সকল মহুকুমাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জেলা গভর্নর পদও সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে যখন দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই বাঙালির জীবনে নেমে আসে ১৫ আগস্ট। ওইদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ যাতে ভবিষ্যতে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য শিশু রাসেলসহ সবাইকে হত্যা করা হয়। মাত্র ১৫ দিন আগে আমরা দু’বোন বিদেশে যাওয়ায় আমরা প্রাণে বেঁচে যাই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৬টি বছর আমাদের দেশে আসতে দেয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ছিল বিভক্ত ও বিভ্রান্ত। যে কারণে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাহস পেয়েছিল। কিন্তু আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লে. কর্ণেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আমিরুল হক মিলন ও এস এম কামাল হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন অধ্যাপিকা মেরিনা জাহান কবিতা।

আবাদী জমির ক্ষতি করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবাদি জমি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘যে কোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণকালে লক্ষ্য রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। উপজেলা পর্যায় থেকেই উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান করার তাগিদ দেন তিনি।’ গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পঞ্চগড়ের নবনির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার সাদাত সম্রাটের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, জেলা, উপজেলা সব জায়গার চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা একরকম নয়। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড়ের নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এলজিআরডি এবং সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।