মুক্তিযুদ্ধ উত্সবে রুশ নৌ-সেনাদের স্মরণ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:৫৬

১৯৭২ সালে বঙ্গোপসাগরে ‘ডিমাইনিং অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশনে অংশগ্রহণকারী রুশ নৌ-সেনাদের সম্মাননা জানালো মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হয়েছে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরও। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে ‘মুক্তিযুদ্ধ উত্সব’ শিরোনামের আয়োজনের সহ আয়োজক হিসেবে ছিল রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্র, সাউথ এশিয়ান মিউজিক ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মহাজোট।

 
১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৪,  পাক সেনাদের পুঁতে যাওয়া মাইন অপসারণে বাংলাদেশে এলেন একদল রুশ সেনা। চট্টগ্রামের চালনা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর অবধি বঙ্গোপসাগরকে ঝুঁকিমুক্ত করতে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সেনা পাঠায় বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশে। দুই বছর ধরে চলা সমুদ্রপথে  অভিযানে তারা উদ্ধার করে যুদ্ধ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও মাইন। ‘ডিমাইনিং অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশনে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারান ৮৫০ রুশ সেনা ও প্রকৌশলী। সেই অপারেশনের চার সেনা ও প্রকৌশলীর পাশাপাশি ‘মুক্তিযুদ্ধ উত্সব’- এ আরো সম্মাননা জানানো হয় পাঁচ সেনার পরিবারকেও।
 
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন— প্রকৌশলী ভিক্টর পাভলোভিচ কজুরিন, সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট টু দ্য কমান্ডার অফ এ মাইনসউইপার ভ্লাদিমির আলেক্সান্দ্রোভিচ কারমাইশেভ, কমান্ডার অফ ইলেকট্রো-মেকানিক কমবেট ইউনিট-৫ আলেক্সান্ডার কাজমিচ চুকানিন, ডেপুটি কমান্ডার অফ শিপ রাইজিং টিম নিকোলাই নিকোলাভিচ ক্লসকভ।
 
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন: সৈনিক ভিপি কজুরিনের স্ত্রী রাইসা আলেক্সান্ডার পেট্রোভা, সৈনিক ভি এ কারামাইসহেভের স্ত্রী আলা এফগিনেভনা কারমাইশেভ, এ কে চুকানিনের স্ত্রী নিনা নিকোলাইভনা চুকানিনা, এন এন কলস্কোভের স্ত্রী নাটালিয়া ইউরেভনা কলোস্কোভা, স্পেশাল পারপাজ এক্সপেডিশন-এর প্রধান প্রকৌশলী ভি এ মলকানোভের স্ত্রী  আনা মিসালোভনা মোলসানোভা।
 
সংবর্ধনা-সম্মাননা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অ্যালবামের প্রকাশনা উত্সব। ‘ডিমাইনিং অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশনের নানা মুহূর্ত আর বীর সেনাদের ছবি নিয়ে ছিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্বোধনী সংগীত ও বিজয়ের গান পরিবেশনায় শুরু হয়  মুক্তিযুদ্ধ উত্সব।
 
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশের প্রথম তথ্য কমিশনার কবি আজিজুর রহমান আজিজ, ঢাকাস্থ রুশ ফেডারেশন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ই ইগ্নাতভ, রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক আলেক্সান্ডার পে. দেওমিন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মহাজোটের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক, সাউথ এশিয়ান মিউজিক ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান শরীফ আশরাফউজ্জামান।

ইত্তেফাক/এএন