যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূর জিহ্বা ও পায়ের রগ কেটে দেয় ঐ গৃহবধূর স্বামী। সে তার সহযোগীদের নিয়ে এমনি ঘটনা ঘটায় গত বৃহস্পতিবার রাত ৭টার দিকে। সিলেট সদর উপজেলার পশ্চিম দর্শা গ্রামে এমন বর্বর হামলার শিকার গৃহবধূ সোমা বেগম গুরুতর আহত অবস্থায় এখন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানায় মামলার করা হয়েছে। এদিকে শনিবার অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামি বেলালের মা জয়বুন্নেসাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জালালাবাদ থানার ওসি আকতার হোসেন জানান, বেলাল তার পরিবারের লোকজনের প্ররোচনায় যৌতুক দাবি করে সোমার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান আসামি বেলাল। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদেরও ঐ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ওসি জানান, পলাতক বেলাল ও অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০০৮ সালে দক্ষিণ সুরমার লামুয়া গ্রামের বেলাল মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সোমা বেগমের। বিয়ের তিন বছরের মধ্যেই আরেকটি বিয়ে করেন বেলাল। এরপর থেকেই প্রথম স্ত্রী সোমার ওপর স্বামী নির্যাতন চালায়। নির্যাতন সইতে না পেরে এক বছর আগে বাবার বাড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম দর্শায় ফিরে আসেন সোমা।
সোমার বড় ভাই হাফিজ জানান, তাদের বাড়ি গিয়েও স্ত্রীর কাছ থেকে জোর করে প্রায়ই টাকা আনতেন বেলাল। কিন্তু চাহিদামত টাকা দিতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেলাল তার সহযোগীদের নিয়ে সোমার ওপর আক্রমণ চালিয়ে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে প্রথমে কেটে ফেলেন সোমার জিহ্বা। এরপর এক পায়ের রগ কেটে ফেলেন। কুপিয়ে জখম করেন আরেক পা। এ ব্যাপারে শুক্রবার সন্ধ্যায় বেলাল ও তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ইত্তেফাক/এমআই
