উখিয়ায় রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শনে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৫:৫৭
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এলপি মারসুদি বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উখিয়াস্থ কুতুপালং টিএন্ডটি এলাকায় নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প মিলনায়তনে মিয়ানমারের গুলিবিদ্ধ স্বজনহারা, সম্ভ্রমহারা বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন। 
 
এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় জানতে চান তারা মিয়ানমার থেকে কেন পালিয়ে এসেছেন? প্রতি উত্তরে মিয়ানমারের খেয়ারীপ্রাং গ্রামের গুলিবিদ্ধ পা হারানো রোহিঙ্গা হাফিজুল ইসলামের ছেলে মুফিদুল মোস্তফা (২২), আরেক গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা ইনছং গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে ইলিয়াছ (১৮) চোখের পানি ফেলে মিয়ানমার সেনাদের নিমর্ম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। এসময় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সম্ভ্রমহারা কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী তাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ইউয়ান উইবানাতা আদমাজ্জা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি উপস্থিত ছিলেন। 
 
পরে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়া অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে তারা এখানে পালিয়ে আসার ব্যাপারে জানতে চান। এসময় রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ, গণগ্রেপ্তার, অপহরণ ও ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। 
 
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, মাঈন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই