ভবন অবকাঠামোর জীর্ণদশা। আদ্রতাজনিত সমস্যায় কক্ষগুলো স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে জাদুঘরে রক্ষিত মূল্যবান দুর্লভ প্রত্ন সম্পদগুলোর ওপর। বছর খানেক আগে বেশকিছু মূল্যবান সম্পদ রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে জাদুঘরটি মূলত সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে কাটছে না চলনবিল জাদুঘরের দৈন্যদশা। অযত্ন অবহেলায় শ্রীহীন হয়ে পড়েছে জাদুঘরটি। একারণে দর্শনার্থী টানতে পারছেনা প্রতিষ্ঠানটি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চলনবিল জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৮ সালে। 'চলনবিলের ইতিকথা' বইয়ের লেখক অধ্যাপক এম.এ হামিদ ব্যক্তি উদ্যোগে চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার মহান ব্রত নিয়ে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়ন সদরে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উদ্যোক্তার জন্ম একই গ্রামে।
সেই সাথে চলনবিল তথা উপ-মহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংগ্রহ করে আনা হয় এ জাদুঘরে। যা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংগ্রহ ছিল। উপ-মহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে এ জাদুঘরে। তাছাড়া চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি চলনবিল অঞ্চলের মানুষ ও তাদের ইতিহাস-কৃষ্টিকালচারকে সমৃদ্ধ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এজন্য তিনি একটি ভবনসহ আটশতক জায়গা জাদুঘরের অনুকূলে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা গত রবিবার মোবাইলফোনে ইত্তেফাককে বলেন, জাদুঘরটি আধুনিকরণের জন্য সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন ভবনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বাড়ানো হবে লোকবল। সেখানে জাদুঘরটির উদ্যোক্তা এম.এ হামিদকে স্মরণীয় রাখতে তার ছবিসহ পৃথক একটি গ্যালারি থাকবে। আর তখনই ফিরিয়ে আনা হবে রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য নিয়ে যাওয়া সকল সম্পদ।
ইত্তেফাক/এসএস
