বগুড়ায় করতোয়া নদীর দখলদার উচ্ছেদ করতে গিয়ে শুরুতেই বাধার মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন। নদী তীরে অবস্থিত একটি মসজিদ উচ্ছেদের আওতায় এলে সেই মসজিদ রক্ষার দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী উচ্ছেদে বাধা দেয়। এ সময় সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। মসজিদ বাদ রেখে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলো বগুড়া জেলা প্রশাসন। এ জন্য সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান দল সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু তার আগে থেকেই ভাটকান্দি বায়তুল হামদ জামে মসজিদের সামনে কয়েকশ নারী-পুরুষ অবস্থান নেন। তারা মসজিদ ভাঙতে বাধা দেওয়াসহ সেখানে বিক্ষোভ করেন।
এলাকাবাসীর বাধার মুখে ওই মসজিদ বাদ রেখে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মসজিদের অদূরে পৌরসভার পানির পাম্প ঘর ভেঙে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানকালে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, বগুড়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমাল হোসেনসহ পুলিশ, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, সদর উপজেলার দক্ষিণে ভাটকান্দি থেকে উত্তরে মহিষবাথান এলাকায় পাঁচটি মৌজায় করতোয়া নদীর দুই তীরে ৩৮টি স্থানে নদীর জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩১। অবশিষ্ট ৭টি স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং বালু উত্তোলন করা হয়। দখলদারদের তালিকায় বগুড়া পৌরসভা, ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস’র নামও রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজ উদ্দিন জানান, উচ্ছেদ অভিযানের যে তালিকা করা হয়েছে, তার প্রথমে ছিলো ভাটকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন বায়তুল হামদ জামে মসজিদ। এজন্য সেটি থেকেই উচ্ছেদ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি ওই মসজিদটি নদীর সীমানায় পড়েনি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় তারা মসজিদ নির্মাণের দাবি করে সেটি ভাঙতে বাধা প্রদান করে। তিনি জানান, তাদের অভিযান একদিনে শেষ হবে না। ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’
উচ্ছেদ অভিযানের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বগুড়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমাল হোসেন পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘করতোয়া নদী রক্ষার দাবি বগুড়াবাসীর প্রাণের দাবি। প্রশাসনের কাছে থাকা রেকর্ডপত্র অনুযায়ী মসজিদটি নদীর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসী যেহেতু দাবি করছেন যে এটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, তাই আবারো পরীক্ষা করে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তার এই বক্তব্যের পর এলাকাবাসী পিছু হটে। এরপর পৌরসভার পানি পাম্পঘর উচ্ছেদের মধ্যদিয়ে এই অভিযান শুরু হয়।
এদিকে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), বগুড়া’র সভাপতি মাছুদার রহমান হেলাল করতোয়া বাঁচাও নেটওয়ার্ক ও বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক করতোয়া নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
