পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সুন্দরবন নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক কথা বলছেন। তবে সুন্দরবনে গাছের চারা লাগানো ছাড়াই বন বাড়ছে। বন বিভাগ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও করছে। সুন্দরবনের উপর দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ নির্ভর করছে। এই বনকে ঘিরে অনেক লোকের জীবন-জীবিকা আবর্তিত হয়। তবে সুন্দরবনের এসব ইতিবাচক দিক উঠে আসছে না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বন মহাপরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ বন বিভাগ। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ছোট দেশ। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এ দেশে ১৭ কোটি মানুষ বসবাস করছে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। আশা করছি, আমরা এ যুদ্ধে জিতবো।
তিনি বলেন, কর্মশালায় জ্ঞাননির্ভর প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দেশের বন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের উন্নয়নের অনেক পরামর্শ উঠে এসেছে। এসব পরামর্শ মেনে কাজ করার চেষ্টা করবে সরকার। অবশ্য এজন্য দেশের মানুষের সহায়তা দরকার। বাংলাদেশের জন্য ২০ বছর মেয়াদী বন মহাপরিকল্পনা করায় বন বিভাগ এবং সকল উন্নয়ন অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। এই মহাপরিকল্পনার মধ্য দিয়ে দেশের বন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক দুটি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের বন মহাপরিকল্পনা (২০১৭-২০৩৬) নিয়ে ড. এইচ. এস. পাবলা এবং উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী নিয়ে ড. খালেদ হাসান নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন সচিব ইশতিয়াক আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার রাজশ্রী এস পারালকার প্রমুখ।
ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ২০ বছর মেয়াদী এই মহাপরিকল্পনা বন বিভাগের জন্য নতুন। এটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনের অবস্থা অন্য সময়ের চাইতে ভালো। এটা আমাদের জন্য সুখবর।
রাজশ্রী এস পারালকার বলেন, একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ এলাকায় বনভূমি থাকা দরকার। সেই হিসেবে বাংলাদেশে ২০ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। বন বিভাগের নানা উদ্যোগের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। বন ব্যস্থাপনায় স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।
ইত্তেফাক/এএন
