শিক্ষা খাতে সম্পদের সিমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষা কর চালুর আহবান জানানো হয়েছে। ‘২০৩০ সালে শিক্ষা ঃ ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেছেন, বাজেট অপ্রতুলতার কারণে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা শিক্ষকতায় আসতে চান না। এতে শিক্ষার মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। মূলতঃ শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট অপ্রতুলতার কারণে এমনটি হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণসাক্ষরতা অভিযান এবং এসিডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. মঞ্জুর আহমেদ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা শিক্ষকতায় আসতে চান না। মূলতঃ শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট অপ্রতুল বলেই এমনটি হচ্ছে। আমাদের দেশের স্কুলগুলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষামন্ত্রালয়ের অধীনে নিয়ন্ত্রিত। এতে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে দুই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ছত্রছায়ায় থাকা ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। এছাড়া গ্রেডিং ব্যবস্থা শিক্ষার মান নষ্ট করে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, যে সম্পদ আমাদের হাতে আছে এগুলোর ওপর বিভিন্ন মহলের চাপ রয়েছে, যা কোনো রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে মোকাবেলা করা কষ্টকর। এসকল চাপ মোকাবেলায় সুশীল সমাজ সোচ্চার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলেও এসব বিশ্ববিদ্যালয়েল মান ডিগ্রি কলেজের থেকেও দুর্বল। শিক্ষা নিয়ে আমাদের খাতভিত্তিক চিন্তা আছে। কিন্তু বৃহত্ চিন্তা নেই। অবকাঠামো নিয়ে আমরা বৃহত্ চিন্তা করছি, পদ্মাসেতু, কর্ণফুলি টানেল, বহুকিছু চিন্তা করছি। শিক্ষা নিয়ে বৃহত্ চিন্তা করার জন্য সুশীল সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, ৬৫ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল কোনো ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়াই চলছে। আমরা আশা করি, শিক্ষা আইনে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হওয়ার বিধান রাখা হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ খুবই কম। মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপির) মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বিত্তবানদের শিক্ষা সম্প্রসারণে জন্য কর দিতে হবে। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর ৪০ শতাংশ বেকার থাকছে। এই ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী কী শিক্ষা পেল, যে তার কোনো কাজ পেল না। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেছেন, আমরা যে উন্নয়ন বাজেট করি, কোনো মন্ত্রণালয় এর ৮০-৮১ শতাংশের বেশি খরচ করতে পারে না। কাজেই বাস্তবায়ন ফলপ্রসূ না করে বাজেট বরাদ্দ বাড়ালেই তা কাজে আসবে না। মূলত বরাদ্দ ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হলে অর্থ সংকটের সমাধান হবে। ব্যয়ে অদক্ষতার জন্য আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ছি। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কোনো রকম সুপারিশ ছাড়া নিয়োগ দিতে পারলে যোগ্যরা শিক্ষকতা পেশায় আসবে বলে তিনি মনে করেন।
ইত্তেফাক/এএন