পুঁজিবাজারে জেনে বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৭

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জেনে বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে। যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন তাদের অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনা করতে হবে। কারণ জেনে বুঝে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারী ঠকেন না। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে পেছনে ঠেলে দিয়ে অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা চিন্তা করা যায় না। তাই পেছনের সব ভুল সমাধানের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত ‘বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা সম্মেলন ঢাকা-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।

এসময় অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাজার উন্নয়নের জন্য আমি  মাঝে মধ্যে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনায় বসব। আপনারা নিজেদের এবং আমার উপর বিশ্বাস রাখবেন। দেশের অর্থনীতি যত বড় হবে, পুঁজিবাজারও তত বড় হবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য শিক্ষা নিতে হবে। ঠিক করতে হবে আমরা কোথায় যাচ্ছি। এটা মাছ বাজার বা কাঁচা বাজার নয়। এ বাজার আমাদের দ্বারাই পরিচালিত। আমরাই খরিদ্দার, আবার আমরাই বিক্রেতা। এটাও ঠিক যে এখানে কেউ কেউ খুব তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়ার জন্য আসে। আমরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য মিথ্যা রটিয়ে আরেকজন ঠকাই, এটা ঠিক না। তাই এই বাজারের সবাইকে ভালো বলা যাবে না। অনেকেই দ্রুত লাভবান হতে চায়। এটা করতে গিয়ে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু মানুষ আছে লাভবান হতে তারা কানকথা বলে, গুজব রটায়। মিথ্যা কথা বলে। এটা না করে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে লাভবান হতে হবে। আমাদের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার একসঙ্গে গাঁথা। পুঁজিবাজার অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন। এখানে বিনিয়োগকারীদের গুরুত্ব অপরিসীম। তাদের ছাড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরবে না। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে। সকালে শেয়ার কিনে বিকালে বিক্রি করার জায়গা এটা না। তিনি বলেন, সারাবিশ্বের পুঁজিবাজারেই পতন হয়। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ভারতে ২০০৮ সালে, জাপানে ১৯৮৯ সালে, আমেরিকায় ২০০৮ সালে সূচকের ব্যাপক পতন হয়েছে। তবে পরবর্তীতে তা আবার পূরণ হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী, ড. স্বপন কুমার বালা ও খন্দকার কামালউজ্জামান।