স্বর্ণ চোরাচালানসহ সব ধরনের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সহজ করার উপায় খুঁজতে বাংলাদেশ ও ভারতের শুল্ক ও রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন। আগামী রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুইদিনের ওই বৈঠক শুরু হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. শহীদুল ইসলাম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্য বিমানবন্দর স্থলবন্দরে ঘন ঘন স্বর্ণ আটকের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, এর বাইরে একটি বড় অংশ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে। উভয় দেশই স্বর্ণ চোরাচালান ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে তুলবে। ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, ভারতে স্বর্ণ চোরাচালান যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটি নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। ভারতের পক্ষ থেকে এই ইস্যুটিকে আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারের আড়ালে সোনা চোরাচালান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ উপায়ে চোরাচালানকৃত স্বর্ণ আটকের ঘটনাও সম্প্রতি ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আলোচনায় ভারতের ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের (ডিআরআই) মুখ্য মহাপরিচালক দেবী প্রসাদ দাস ভারতের আট সদস্যের নেতৃত্ব দেবেন। আর বাংলাদেশের পক্ষে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. শহীদুল ইসলাম ১৩ সদস্যের নেতৃত্ব দেবেন। উভয় দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে হটলাইন টেলিফোন সংযোগ চালু করা, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের রূপরেখা, সন্দেহভাজন যাত্রীর উপর নজরদারি বাড়ানো, বাণিজ্য সহজ করা, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ ১৩টি আলোচ্যসূচি ঠিক করা হয়েছে।
অন্যদিকে সোনা চোরাচালান রোধ, বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণি রক্ষা, ভারতীয় জাল নোট পাচার নিয়ন্ত্রণ, ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ মাদক চোরাচালান ঠেকানোসহ ভারতের পক্ষ থেকে সাতটি আলোচ্যসূচি ঠিক করা হয়েছে।
এ সময় জানানো হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৮৫ হাজার ২১০ কোটি টাকার সমপরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে সাত হাজার ৬১৭ কোটি টাকার পণ্য।
