পাকিস্তানে ১ হাজার বেলুচ নাগরিকের লাশ লুকানোর অভিযোগ

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯:৩০
 
পাকিস্তান ১ হাজার বেলুচিস্তানের নাগরিকের লাশ লুকিয়ে মাটি চাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিগত ৬ বছরে বেলুচিস্তানে আন্দোলনকারী ও এই অঞ্চলের মানুষের পক্ষে কাজ করা প্রায় ১ হাজার জনের লাশ গুম করা হয়েছে বলে মানবাধিকার মন্ত্রণালয় থেকে বিবিসি উর্দু তথ্য পেয়েছে। এটিকে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচাইতে বড় বিচার বহির্ভূত হত্যা হিসেবে দেখছে মানবাধিকার কর্মীরা।
 
মারা যাওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়দের দাবি, পাকিস্তানের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো তাদের তুলে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে কারো কারো লাশ মিলছে। অনেকের লাশই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
 
অবশ্য এই মানুষদের গুম হয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী ও বিদ্রোহীদের দায়ী করছে পাকিস্তান সরকার।
 
২০০৭ সালে পৃথক হয়ে যাওয়ার আন্দোলন শুরুর পর থেকে বেলুচিস্তানে কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য মতে, ২০০৫ সালে পাকিস্তানের সামরিক বিভাগ একটি অপারেশন পরিচালনা করে। এ সময় বেলুচিস্তানের নাগরিকেরা নিজেদের অঞ্চলের সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা বিষয়ে সচেতন হয়ে আন্দোলন শুরু করে। আর তা দমনে চালানো হয় সেনাবাহিনীর অপারেশন।
 
মানবাধিকার সংস্থার দেয়া তথ্যানুসারে, ২০১১ সালে কমপক্ষে ৯৩৬ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। লাশ পরে থাকতে দেখা গেছে কুয়েটা, কালাত, খুজদার ও মাকরান এলাকায়।
 
বেলুচিস্তান থেকে পালিয়ে আসা এক নাগরিক জানায়, সেখানে বর্তমানে সাংবাদিকদেরও প্রবেশ করতে দেয়া হয়না।
 
উল্লেখ্য, রিপোর্টার্স উইথাউট বর্ডার-এর ভাষ্যমতে পৃথিবীতে সাংবাদিকদের জন্য সবচাইতে বিপদজনক 'লাল' চিহ্নিত এলাকার একটি বেলুচিস্তান। এই অঞ্চলে গত কয়েক বছরে ২৩ জন সাংবাদিক মারা গেছেন।
 
 
বেলুচিস্তানের 'মুকুটহীন রাজা' খ্যাত  'দ্য খান অব খালত' এইচ এইচ আমির আহমেদ সুলেমান দাউদ বাংলাদেশ সফরে এসে জানান, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সৈন্যরা যা করেছে, তা গত ৭০ বছর ধরে বেলুচিস্তানের সঙ্গে হচ্ছে। কিন্তু তরুণদের হাত ধরে এবার আরও দৃঢ়ভাবে শুরু হয়েছে স্বাধীনতার আন্দোলন।’ বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/আরএ