পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশের প্রায় এক কোটি লোক সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে সুন্দরবনের কিছুটা ক্ষতি হলেও সেখানে প্রতিবছর নতুন নতুন গাছ রোপণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা বলছেন সুন্দরবনের সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে তাদের উচিত হবে সুন্দরবন দেখে আসা। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রাণীবিজ্ঞান সমিতির জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খান হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জন্মের পর থেকে পৃথিবীতে পরিবর্তন ঘটে আসছে। ভবিষ্যতেও পরিবর্তন হবে। অনেক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে নতুন নতুন সভ্যতা গড়ে উঠেছে। তবে ইদানিং আমরা সবকিছু রক্ষার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। মনে রাখতে হবে প্রকৃতির সবকিছু নিয়মের মধ্যেই চলছে। তিনি বলেন, দূষণ কমবেশি পৃথিবীর সব জায়গায় আছে। যারা বাংলাদেশকে দূষিত মনে করেন তাদের জানা উচিত দিল্লি এবং বেইজিং কম দূষিত শহর নয়। এমনকি মহাসাগরে যে পরিমাণ পলিথিন রয়েছে তা কল্পনাতীত। কয়েক লাখ টন পলিথিন সেখানে জমা হবার ফলে মাছ এবং অন্যান্য প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর অনেকে বলেছিল বাংলাদেশ টিকবে না। কিন্তু এতবছর পর সবাই বলছে, বাংলাদেশ খুব একটা খারাপ করছে না। তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ছয় শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্যের কথা এখন বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে। যে স্বাধীনতার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি তা বৃথা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশে ১৬ কোটি লোকের বাস। প্রতিবছর আমরা চাষযোগ্য জমি হারাচ্ছি। অনেক জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এরপরও দেশের অগ্রগতি চলছে। আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনে বাংলাদেশের প্রশংসা করি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক বনায়ন হয়েছে। ঢাকার বাইরে গেলে সবার চোখে এ দৃশ্য ধরা পড়বে।
সুন্দরবনের পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি বাঘের জীবন ধারণের জন্য সমস্যা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাঘের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে সেখানে পুকুর কাটা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সেলিমা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি হবার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। সেন্টমার্টিনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে এতবেশি সংখ্যক লোক যাচ্ছে তাতে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। এ দ্বীপকে রক্ষা করতে হলে সেখানে জনগণের যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া তিনি সেন্টমার্টিনকে নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঘোষণার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, জীববৈচিত্র্যের ওপর পৃথিবীর অনেক কিছুই নির্ভর করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এসব প্রাণীদের রক্ষা করতে হবে। তিনি প্রাণী রক্ষায় যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি র্যাংগস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য মেশানোর ফলে আমাদের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। এটি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম। পরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রাণীবিদ্যা অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
ইত্তেফাক/এএন।
