হেলথ স্ক্রিনিং কেন প্রয়োজন

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৭, ১৪:১৭
 
একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর সাধারণত: ৬-১২ মাস মানুষের শরীরে সুপ্ত কোনো রোগ আছে কি না তার পরীক্ষা করার নামই হেলথ স্ক্রিনিং। আমাদের দেশে হেলথ ইন্সুরেন্স-এর প্রচলন অতটা না থাকায় কোনো সমস্যা দেখা না দিলে কেউ নিজের টাকা খরচ করে ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। কিন্তু এই অসতর্কতা আমাদের জীবনে অনেক সময় বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
 
হেলথ স্ক্রিনিং সবার জন্য প্রযোজ্য। তবে প্রাপ্ত বয়স্ক বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০ বছর বা তার বেশি তাদের জন্য হেল্থ স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। হেল্থ স্ক্রিনিং-এর মূল বিষয় হচ্ছে যে সমস্ত রোগের প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ থাকে না  সেগুলোকে শনাক্ত করা। যেমন-ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনীর সমস্যা, হার্টের সমস্যা, রক্তের চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, রক্ত শূন্যতা, প্রসাবে ইনফেকশন, শরীরে যে কোনো জায়গায় ইনফেকশন, পেটের ভিতরে (পিত্তথলি, কিডনি ও মূত্রথলি) পাথর হওয়া, জরায়ুর সমস্যা ইত্যাদি রোগসমূহ হেলথ স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে অনেক প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা যায়। হেলথ স্ক্রিনিং-এ সাধারণত: সিবিসি, ফাস্টিং ব্লাড সুগার, সেরাম ক্রিয়েটিনিন, ইউরিন আরএমই, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, লিপিড প্রোফাইল করতে দেয়া হয়। এসব টেস্টের মাধ্যমে কোনো রোগের প্রাথমিক অবস্থা অথবা কারো কোনো পূর্বের অসুখ থাকলেও তার অবস্থা জানা যায়।
 
বাইরের উন্নত দেশগুলোতে ৬-১২ মাস পর পর সবাই হেলথ স্ক্রিনিং করে থাকেন। তাই প্রতিটি সচেতন মানুষের উচিত নিয়মিত হেলথ স্ক্রিনিং-এর মাধ্যমে নিজের শরীরের সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সুস্থ সবল জীবন যাপন করা।
 
 
 
লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ