নতুন বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪৭ পয়েন্ট। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসায় ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আসলে বাজার স্থিতিশীল হবে। তবে এ সময়ে বিনিয়োগকারীদেরকেও বুঝে শুনে বিনিয়োগ করতে হবে। খারাপ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। তাহলে আর কোনো ভয় থাকবে না।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কিছু কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক কম দামে রয়েছে। এ কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করতে হবে। কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়ে গেছে। এ কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় আবার বিনিয়োগকারীদের জন্য শঙ্কা তৈরি হবে। ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইএক্স ২৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। এদিন সূচক ৫ হাজার ৮৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে। যা ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ডিএসইতে ৩২৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২২৩টি বা ৭৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। আর ৬০টি বা ১৮ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে এবং ২৩টি বা ৭ শতাংশ কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে গতকাল বাজারে দাম কমার শীর্ষে উঠে এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত। শীর্ষ দর হারানোর তালিকায় ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টিই ছিল এ খাতের।
গতকাল ডিএসইতে ৯৯৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যার পরিমাণ আগেরদিন ছিল ১ হাজার ৭০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ইফাদ অটোসের শেয়ার। এদিন কোম্পানির ৩০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা আরএসআরএম স্টিলের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক ৯২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৬২ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে ৬২ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬০টি ইস্যুর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৮টির, কমেছে ৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির।
