আবারো পার্লামেন্টে উঠছে থেরেসা মে’র খসড়া চুক্তি

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৭

দুই দফা বাতিলের পর তৃতীয় দফায় ভোটের জন্য পার্লামেন্টে উঠতে যাচ্ছে থেরেসা মের ব্রেক্সিট খসড়া চুক্তি। আজ শুক্রবার সরকারের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর বিতর্ক হবে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মের প্রস্তাবের ওপর তৃতীয় দফায় কোনো অর্থপূর্ণ ভোটাভুটি হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। এর আগে বুধবার শর্ত সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন থেরেসা মে। তার দলের নেতারা বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা ব্রেক্সিট চুক্তির অনুমোদন দেবেন। এখন তার দলের কিছু এমপি আগ্রহী হলেও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের দল ডিইউপি বলেছে, তারা মের খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে না। আবার পার্লামেন্টে ভোটদান থেকে বিরতও থাকবে না। ফলে থেরেসা মের পদত্যাগের ঘোষণার পরও তার চুক্তি অনুমোদনের সম্ভাবনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে এমপিদের আটটি প্রস্তাবের কোনোটিই নিম্ন-কক্ষের ভোটে স্পষ্ট সমর্থন আদায় করতে পারেনি। খবর:বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্সের।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এমপিদের আটটি প্রস্তাবের কোনোটিই অনুমোদন না পাওয়ায় এমপিরা পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে মতৈক্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ব্রেক্সিটপন্থি এমপিরা থেরেসা মের চুক্তিকে সমর্থন দিতে রাজি হলেও ডিইউপি তাদের অবস্থানে অনঢ় রয়েছে। কমন্স নেতা আন্দ্রিয়া লিডসম এমপিদের বলেছেন, সরকারের ব্রেক্সিট প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার বিতর্ক হবে। যদিও স্পিকার জন বারকাউ বলেছেন, দুইবার ব্যর্থ হওয়া খসড়া চুক্তির ওপর তৃতীয় দফায় ভোট হতে অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে লিডসম বলেছেন, প্রস্তাব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা স্পিকারের রুলিং পাল্টাতে পারে। কেবিনেট অফিস বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড লিডিংটন জাতীয় স্বার্থে থেরেসা মের খসড়া চুক্তি অনুমোদনের জন্য এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সপ্তাহে থেরেসা মের চুক্তি পাস না হলে কী হবে? বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তাহলে বুধবার ইন্ডিকেটিভ ভোটে বাতিল হওয়া আটটি প্রস্তাবের কয়েকটি নিয়ে আবারো এমপিরা আলোচনা শুরু করবেন। নিশ্চয়তামূলক একটি গণভোটের প্রস্তাব ২৭ ভোটে হেরেছে এবং কাস্টমস ইউনিয়নের প্রস্তাব ৮ ভোটে হেরেছে। এসব বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্রস পার্টির কাস্টমস ইউনিয়নের প্রস্তাবে আরো এমপি ভোট দেবেন। যদিও অচলাবস্থা কাটাতে দ্বিতীয় গণভোটের বিষয়টি এখনো নাকচ করা হচ্ছে না। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউর মুখাপাত্র বলেছেন, আট প্রস্তাবে ভোটের ফল দেখেছি। সামনে এগোতে আমরা এখন ‘হ্যাঁ’ শুনতে চাই।

প্রসঙ্গত, ব্রেক্সিট গণভোটের রায় অনুযায়ী এ বছরের ২৯ মার্চ ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক কেমন হবে তেমন কিছু শর্ত নির্দিষ্ট করে একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছিল; কিন্তু পার্লামেন্টের নিম্ন-কক্ষ হাউস অব কমন্সে দুই দফা ভোটে তা সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থন আদায় করতে পারেনি। ইইউ থেকে ২৯ মার্চের পরিবর্তে ১২ এপ্রিল ব্রেক্সিটের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। মের চুক্তি অনুমোদন পেলে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা ২২ মে পর্যন্ত বাড়াতো ইইউ। তবে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে ১২ এপ্রিলেই কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে হবে।