ভাঙা কাঁচের ভেতর থেকে হাত নাড়িয়ে বাঁচার আকুতি

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৮

 ‘আমাদের জন্য সিঁড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তা না হলে আমরা ধোঁয়ায় শ্বাস কষ্টে মারা যাব—’ ‘সেজুতি স্বর্ণা’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে একজন ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে এভাবেই একজন বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়— একজন জানালা দিয়ে নিচের রাস্তা দেখিয়ে বলছেন, ‘আমরা ভেতরে আটকা’।

এফ আর টাওয়ারের ১৪-তলায় একটি প্রপার্টিজ অফিসের কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলছিলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করি। কিন্তু ততক্ষণে দেখি সিঁড়িও ধোঁয়ায় অন্ধকার। পরে ১৪-তলা থেকে ছাদে গিয়ে পাশের আওয়াল সেন্টারে চলে যাই। সেখান থেকে নেমে আসি। তিনি বলেন, আমি এয়ারফোর্সে ছিলাম বলে আমার পক্ষে এভাবে বাঁচা সম্ভব হয়েছে। তবে আমার সঙ্গে ছাদে থাকা আরও তিনজনকে দেখেছি, তারা পাশের ভবন পার হতে পারছিলেন না’।

রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফ আর টাওয়ারে যে তলায় আগুন লেগেছে তার ওপরের তলাগুলোয় অনেকেই আটকা পড়েন। অনেকে আতঙ্কে ওপরের তলাগুলোয় আশ্রয় নেন। কেউ কেউ ছাদে উঠে পাশের ভবনে গিয়ে নামার চেষ্টা করেন। কয়েকজন বিভিন্ন ধরনের তার ধরে নামার চেষ্টা করেন। আর যারা ভবনটির ভেতরে আটকা পড়েছেন তারা ভাঙা কাচের ভেতর দিয়ে হাত নেড়ে বাঁচার আঁকুতি জানান।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, ভবনের আটতলা থেকে একটি মেয়ে তার ধরে নামার চেষ্টা করছিল। তখন হাত ফসকে মাটিতে পড়ে যান। এর পর পর আরও দুইজন পুরুষ পড়ে যান। আমি নিজে এই তিনজনকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছি। মেয়েটার সারা শরীরে কাচ লেগে ছিল।