চট্টগ্রাম বন্দরে অভিনব কায়দায় জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য খালাসে জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত বছর অবসরে যাওয়া একাধিক কর্মকর্তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে মিথ্যা ঘোষণার পণ্য চালান খালাস করে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে এর সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে শনাক্ত করতে পেরেছে। দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করা বন্দরের এক কর্মীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। আগামী ৩১ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের শুল্ক গোয়েন্দা ও রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, দুই কর্মকর্তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার হয়েছে প্রায় চার হাজার বার। এর ফলে বিশাল অঙ্কের মিথ্যা ঘোষণার পণ্য বন্দর থেকে অবৈধ উপায়ে বেরিয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে একাধিক পণ্য চালান সন্দেহজনক হওয়ায় তা খালাস স্থগিত করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধও করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেশকিছু পণ্য চালান খালাস হয়। ২২টি চালানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ঘটনার পর তোলপাড় তৈরি হয় পুরো রাজস্ব প্রশাসনে। এ ঘটনা তদন্তে তিনটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দার একটি কমিটি কাজ করছে।
ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, এটি অনেক বড় ঘটনা। ২২টি বেরিয়ে যাওয়া চালান চিহ্নিত করেছি। তদন্ত কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে যেহেতু অবৈধ উপায়ে খালাস হয়েছে, ফলে এটি নিশ্চিত যে পণ্যের ঘোষণা ছিল, প্রকৃতপক্ষে এসেছে অন্য পণ্য। এ সময় শুল্ক গোয়েন্দার অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল হাকিম বলেন, খালাস হওয়া কন্টেইনারে স্টিলের পণ্যের ঘোষণা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে মদ ও সিগারেটের মত উচ্চ শুল্কের পণ্য ছিল।
