দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনাথের শুঁটকি জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। এতে করে একদিকে আয় বাড়ছে ব্যবসায়ীদের, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে শত শত নারী-পুরুষের। সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের লামাকাজি ইউনিয়নের মাহতাবপুর নামক গ্রামের সড়কের উত্তর পাশে রয়েছে বিশাল মাছের আড়ত্। আর দক্ষিণ পাশে আছে শুঁটকির আড়ত্। শনিবার সরেজমিনে লামাকাজি ইউনিয়নের মাহতাবপুর ঘুরে দেখা যায়, শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ শুঁটকি শুকাতে ব্যস্ত, কেউবা শুকিয়ে যাওয়া শুঁটকি বাজারে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত, আবার কেউবা মাছের আড়ত্ থেকে মাছ আনার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করছেন।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর নভেম্বর মাস থেকে শুঁটকির মৌসুম শুরু হয়ে মার্চ মাসে গিয়ে শেষ হয়। শুঁটকির মৌসুম আসলেই ব্যবসায়ী-শ্রমিক সবার মধ্যেই শুরু হয় প্রাণচাঞ্চল্য। সব ধরনের মাছের শুঁটকি পাওয়া গেলেও ওই এলাকায় টেংরা ও পুঁটি মাছের শুঁটকির জন্য বেশ খ্যাতি রয়েছে। প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়ী এখানে বিনিয়োগ করেছেন। সবমিলিয়ে দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন এই শুঁটকি আড়তে। গড়ে প্রতিদিন দুইশ থেকে তিনশ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন শ্রমিকরা। ওই হিসেবে দুইশ জন শ্রমিকের জন্য মাসে ব্যবসায়ীদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও এখানে কাজ করেন।
ব্যবসায়ী হেলাল আহমদ জানান, তিনি এ বছর থেকে শুঁটকি ব্যবসা শুরু করেছে। তিনি পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করে এখন পর্যন্ত এক লাখ টাকা আয় করেছেন।
ব্যবসায়ী কালা মিয়া, জাকির হোসেন, গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা শুঁটকি সিলেটের বৃহত্ শুঁটকি আড়ত ছড়ারপার এলাকায় পৌঁছে দেই। সেখান থেকে শুঁটকি সারা দেশে পৌঁছে যায়।’
শুঁটকি ব্যবসা করে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের হাত ধরে এলাকার বেকার যুবকরাও এ কাজে জড়িত হচ্ছে। ফলে একদিকে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে, অপরদিকে বেকারত্বও কমছে।
শ্রমিক আব্দুর রহমান জানান, শুঁটকির আড়তে তিনি গত পাঁচ বছর যাবত্ কাজ করছেন। আর এই রোজগারের টাকায় ছয় সদস্যের পরিবার চলে।
নারী শ্রমিক মিনারা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শুঁটকি ব্যবসায়ীদের সাথে কাজ করছেন। প্রতিদিন প্রায় আড়াইশত টাকা আয় করেন। এই শুঁটকি ব্যবসা তাদের এলাকার চেহারা পাল্টে দিয়েছে।
লামাকাজি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, এক সময় এলাকার যুবকরা বেকারত্বের অভিশাপ জর্জরিত ছিল। এই শুঁটকি ব্যবসার কারণে এলাকার অনেক যুবকের বেকারত্ব দূর হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
