আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক গার্মেন্টস কারখানায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতির ঘটনায় শ্রমিক ছাঁটাই ও গ্রেফতারে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশিষ্ট ১৫ নাগরিক। সেই সঙ্গে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নেয়ায়ও তারা উদ্বিগ্ন। চলমান শ্রমিকদের দাবি নিয়ে চলমান পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শনিবার শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের নামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকদের দাবি উত্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করা, শ্রমিক ছাঁটাই ও মামলা দায়েরের ঘটনাকে অনভিপ্রেত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গার্মেন্টসের মত আন্তর্জাতিক স্পর্শকাতর শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ নিষ্পত্তিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। অথচ কারখানা বন্ধ করা ও মামলা দায়েরের বিষয়টি অনভিপ্রেত। গ্রেফতারকৃত ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের মুক্তি, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল, মামলা প্রত্যাহার ও কারখানা এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। সরকার, কারখানা মালিক, বিজিএমইএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শ্রম আইন অনুযায়ী অসন্তোষ নিরসন ও শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি পদ্ধতি করার আহ্বান জানানো হয়। সেই সঙ্গে শ্রমিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে দাবি বিবেচনা ও সমস্যা সমাধানের সুপারিশও করা হয়।
বিবৃতিদানকারীরা হলেন- শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারম্যান এডভোকেট সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সালমা আলী, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশি কবির, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, নারীপক্ষের সভানেত্রী রেহানা সামদানি, সদস্য শিরীণ হক, নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যরিস্টার সারা হোসেন, বিল্স এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাফরুল হাসান, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র্র’র নির্বাহী পরিচালক মাশহুদা খাতুন শেফালি, কর্মজীবী নারী’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবী, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার, সেফটি এন্ড রাইটসের নির্বাহী পরিচালক সেকান্দার আলী মিনা এবং বিল্সের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ।
প্রসঙ্গত, গত মাসে আশুলিয়ায় বেনামি লিফলেটের উপর ভর করে গার্মেন্টসে ন্যুনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা করার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে শ্রমিকরা। ১১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া কর্মবিরতির শিকার হওয়া কারখানা ১৯ ডিসেম্বর নাগাদ ৫০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে সরকার ও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজে ফেরার অনুরোধ জানালেও সাড়া মেলেনি। তুলনামূলক কমপ্লায়েন্ট (কর্মপরিবেশ সম্পন্ন) কারখানায় এমন কর্মবিরতি হওয়ায় এর পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠে। এর পর কারখানা বন্ধ করে দেন মালিকপক্ষ। মামলা, গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। ফের কর্মচঞ্চল হয় আশুলিয়া। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেড় হাজারের বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়।
ইত্তেফাক/এমআই
