কুমিল্লায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বড়শালঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময়ে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। তিনটি দোকানসহ বাড়ি-ঘরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনার পর ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউ.এম.এ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ছিল শনিবার। এ নির্বাচনে পাঁচটি পদের বিপরীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ও কামাল চৌধুরী এবং ইউনুছ মাস্টার ও আউয়াল সমর্থিত দুটি প্যানেল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে একটি প্যানেলে মো. ইউনুছ চৌধুরী, মো. নুরুল ইসলাম নজরুল, মো. বাবুল মিয়া, দেওয়ান মো. হুমায়ন কবির ও মোসা. কুহিনুর আক্তার এবং অপর প্যানেলে মো. ইকরাম হোসেন, মো. ইসমাইল হোসেন, দেওয়ান মো. জসিম উদ্দিন, মোস্তফা কামাল চৌধুরী ও মোসা. লিপি আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় চেয়ারম্যান কামাল চৌধুরীর অনুসারী জুয়েল চৌধুরী মোটর সাইকেলযোগে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় সৈয়দপুর বাজারে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন গতিরোধ করে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার মোটর সাইকেলটি ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে কামাল চৌধুরীর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামিদ মোল্লা ও জানু চেয়ারম্যানের দুটি দোকান ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। এতে জুয়েল চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম, ইউনুছ মাস্টার, প্রার্থী বাবুল মিয়াসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। পরে ইউনুছ মাস্টার গ্রুপের লোকজন বড়শালঘর বড় মসজিদের সন্নিকটে হারুনের একটি দোকান এবং হাজী সাহাদাত হোসেন সাদু ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মানছুরুল ইসলামের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, সংঘর্ষের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
