দীর্ঘদিনের বিনিয়োগে মন্দায় দেশের ব্যাংকগুলোতে প্রচুর উদ্বৃত্ত অর্থ জমে রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়ন তথা টেকসই অর্থনীতির জন্য এসব অব্যবহৃত অর্থের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। সেটা করতে গুরুত্ব থাকবে উৎপাদনমুখী খাতের দিকে। আর সেটা হলে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনও সহজ হবে। অন্যদিকে বাজারে বেশি অর্থ প্রবাহের কারণে যাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল থাকবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন মুদ্রানীতি আগামী ২৪ তারিখ ঘোষণা করা হবে। এজন্য দ্রুতগতিতে কাজ এগুচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা হবে আগামী ২৪ জানুয়ারি। সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবীর মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। গভর্নর হিসাবে ফজলে কবীরের দ্বিতীয় মুদ্রানীতি এটি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে গত কয়েকটি মুদ্রানীতির ধারা ঠিক রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। তবে গত কয়েকবারের যে সংযত ও সতর্ক ভঙ্গির মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে তা থেকে সরে এসে এবার কিছুটা সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।
চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই সময় আগামী জুন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে নভেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষেও ১৫ শতাংশের আশপাশে থাকবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সরকার মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সুদহার বাজারভিত্তিক করতে গত বছরের জানুয়ারিতে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসিস পয়েন্ট ৫০ কমিয়ে রেপোতে ৬ দশমিক ৭৫ এবং রিভার্স রেপোতে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমতে কমতে এখন গড় সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমেছে। আমানতের গড় সুদহার এখন ৫ দশমিক ২৯ শতাংশে। তবে ব্যাংকে প্রচুর অলস অর্থ পড়ে আছে। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে’ সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। আর গত ছয় মাসে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ ১১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা কমে ডিসেম্বর শেষে নেমে এসেছে ৯৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকায়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা বা এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ৬ মাস অন্তর আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। মুদ্রানীতি চূড়ান্ত করতে অন্যান্য বছরের মত এবারও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যাংকার, প্রাক্তন গভর্নর, প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
