মৃত ওয়াজ উদ্দিনের বিচার চলছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৪৬
৭ মাস আগে মারা গেছেন পলাতক যুদ্ধাপরাধী ওয়াজ উদ্দিন (৮০)। মারা যাওয়ার পর এলাকায় মাইকিং করে জানাজা হয়েছে। কিন্তু থানা পুলিশ ট্রাইবুনালকে না জানানোয় মৃত ব্যক্তিকে পলাতক ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।
 
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রামের মৃত জয়নাল আকন্দের পুত্র ওয়াজ উদ্দিন। স্বাধীনতা যুদ্ধাচলাকালে তিনি ছিলেন রাজাকার। তার বিরুদ্ধে খুন ধর্ষণ লুটপাপাটে অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে চারটি মামলা হলে শুরু হয় তদন্ত। একাত্তরের হত্যা, গণহত্যা মামলার আসামি ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের অক্টোবরে তদন্ত শুরু হয়। শুরু থেকেই পলাতক দেখিয়ে তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও ট্রাইব্যুনালে রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ গত ১১ ডিসেম্বর ওয়াজ উদ্দিনকে পলাতক ঘোষণা করে। তারপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে বিচার শুরু করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
 
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়,  ২০১৬ সালের ৭ মে ওয়াজ উদ্দিন মারা গেছেন। ওয়াজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পরও এলাকায় মাইকিং করে জানাজা হয়।
 
ওয়াজ উদ্দিনের পুত্রবধূ সালমা আক্তার জানান, তার শ্বশুর মারা যাওয়ার পর সে সময়কার ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ সাজুর সঙ্গে কথা বলেই লাশ দাফন করা হয়। থানা পুলিশকে জানানো হয়।
 
ওয়াজ উদ্দিনের ছোট ভাই মোজাফর ও মোসলেম উদ্দিন জানান, 'আমাদের বড়ভাই ওয়াজ উদ্দিন মারা গেছেন। তার নামে যুদ্ধাপরাধের মামলা আছে। এখন কি অবস্থায় আছে এটা আমরা জানিনা।’
 
ওয়াজ উদ্দিনের মৃত্যুর দুদিন পর তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির আদেশ আসে ট্রাইব্যুনাল থেকে।
 
ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রিফাত খান রাজিব জানান, এক দিন আগে আমরা জেনেছি যুদ্ধাপরাধী ওয়াজ উদ্দিন মারা গেছেন। আমরা বুধবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রিপোর্ট দিয়েছি। বিষয়টি থানাকে আগেই জানানো হয়েছিল। 
 
যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী ভালুকজান গ্রামের খোরশেদ আলম জানান, মামলার ৩ নম্বর আসামি ছিলেন ওয়াজ উদ্দিন। তার নামে আরও তিনটি মামলা হয়েছিল। ওয়াজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর মাইকিং করে জানাজা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশের জানার কথা।
 
ইত্তেফাক/ইউবি