মহাজনী প্রথায় ভালো নেই মেঘনা পাড়ের জেলেরা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:০৫

দিনকাল তেমন ভালো যাচ্ছে না আড়াইহাজারের মেঘনা পাড়ের জেলেদের। অনেকের ভাগ্য বদল হলেও জেলেরা আগের মতোই রয়ে গেছেন।

 
আড়াইহাজার উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। সারাদিন পরিশ্রম করে নদীতে মাছ শিকার করে দিন শেষে মহাজনের পয়সা দিয়ে ডাল-ভাত যোগাড় করার টাকা থাকে না তাদের। ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কি.মি পূর্ব দিকে আড়াইহাজার উপজেলা। ঢাকার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও প্রাচীন মহাজনি প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি মেঘনা পাড়ের দরিদ্র জেলেরা।
 
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্বকান্দি, খালিয়ারচর, হাজির টেক, উলুকান্দি, মধ্যারচর ও কালাপাহাড়িয়া গ্রামে বাস করে প্রায় ২ হাজার জেলে পরিবার। তাদের কাজ প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেঘনা নদীতে জাল দিয়ে মাছ শিকার করা। কিন্তু তাদের ধরা মাছ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন না তারা। এমন কি নিয়ে যেতে পারেন না তাদের পছন্দের কোনো  হাট-বাজারেও। মহাজনরা ঘাট থেকেই কম দাম দিয়ে মাছ নিয়ে যান। পরে তারা হাট-বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে মোটা অংকের মুনাফা অর্জন করেন।
 
পূর্বকান্দি গ্রামের জেলে মঙ্গল চন্দ্র দাস ও ঠাকুর চন্দ্র দাস বলেন, বাপ-দাদার করে যাওয়া পেশাগত কাজ করে যাচ্ছি। সারাদিন পরিশ্রম করে পেটের ভাত যোগাড় করতে পারি না। ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়া করাতে পারি না। আমাদের ছেলেরা বড় হয়ে জেলেই থেকে যায়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। কিন্তু তারা চাইলেও মহাজনরা তা চান না। তাছাড়া আগের মতো মাছ নদীতে পাওয়া যায় না। অনেক প্রজাতির মাছও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের দুুর্দিন চলছে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মহাজন জানান, আমরা জেলেদেরকে জাল, নৌকা ও সরঞ্জাম কিনে দিয়ে সহযোগিতা করি। তাদের এ সমস্ত কেনার সামর্থ্য নেই। এতে কি তারা উপকৃত হয় না? সুতরাং লাভের অংশ তো আমাদেরই বেশি থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া জেলেদেরকে আমরা উপযুক্ত পারিশ্রমিকও দেই।
 
আড়াইহাজার উপজেলা মত্স্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুন্নাহার জানান, তালিকাভুক্ত আমাদের ১ হাজার ১’শ জেলে রয়েছে। জেলেদের অবস্থা ভালো করার জন্য সরকার কাজ করছে।

ইত্তেফাক/এএন