রাজশাহীর হাট-বাজারে হালখাতা উত্সব

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:০৫

রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে ‘হালখাতা’ নামে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও বিগত দিনের হিসাব-নিকাশের উত্সব শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা হালখাতা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বড় বড় ব্যবসায়ীতো বটেই, মৌসুমের ফুটপাতের ভাপাপিঠা দোকানিরাও পাওনা আদায়ে ‘হালখাতা’ নামক বাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এমনকি গ্রামের ভ্যানচালকরাও হালখাতার উত্সবে শরিক হচ্ছেন।

রাজশাহী অঞ্চলে ফসল ভেদে হালখাতার উত্সব শুরু হয়। বাংলা বছরের ফাল্গুনের মাঝামাঝি থেকে বৈশাখের শেষ পর্যন্ত এ উত্সব চলে। তবে পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতার মহরত হয়। এদিন যেন ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা। ব্যবসায়ীদের কাছে এটি একটি পবিত্র, সেতুবন্ধন ও ঐতিহ্যবাহী দিন। হালখাতার দিন মিষ্টিমুখ করানো হয় ক্রেতাদের। আগে একটি খাতায় ব্যবসায়ীরা তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন। হালখাতায় বিক্রেতা নতুন করে ক্রেতার হিসাব-নিকাশ হালনাগাদ করে। হিসাবের খাতা হালনাগাদ করার এ রীতি থেকেই উদ্ভব হয় হালখাতার।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর মোহনপুরের মৌগাছি বাজারে ৫০টি এবং নওহাটা বাজারে ৮০টি দোকানে হালখাতার মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব দোকান ঘরগুলোকে নানা আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। প্রায় দোকানে আলোকসজ্জাও করা হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ।

মৌগাছি বাজারে হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য হালখাতা একদিকে পবিত্র অন্যদিকে ক্রেতার ঋণ পরিশোধের দিন এবং ক্রেতা-বিক্রেতার আনন্দের দিন। হালখাতার উদ্দেশ্য হলো ক্রেতার কাছে ধীরে ধীরে বাকি দিয়ে একবারে ফেরত পেলে ব্যবসার মূলধন বেড়ে যায়। আবার ক্রেতাও অসময়ে দোকানে বাকি রেখে প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

নওহাটা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম জানান, বাংলা নতুন বছরে হালখাতার মাধ্যমে শত বছরের ঐতিহ্যকে রক্ষা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সৃষ্টি করে।