ঢাকার নবাবগঞ্জে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ও দাফনের চার মাস পর কোর্টের নির্দেশে কবর থেকে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
নিহত গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার চুড়াইন শংকরখালী গ্রামের প্রবাসী মো. রাসেলের স্ত্রী। ঘটনার চার মাস পর বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় কবরস্থান থেকে কোর্টের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নী'র উপস্থিতিতে লাশটি তোলা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চূড়াইনের শংকরখালী নিবাসী রাসেলের সাথে প্রতিবেশী সোনিয়া আক্তার পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিলো। সোনিয়ার মা লাকী আক্তার অভিযোগ করে জানান, সোনিয়ার স্বামী রাসেল চাকুরীর জন্য তার কর্মস্থল কাতার চলে গেলে তার উপর শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতন শুরু হয়। গত বছরের ১৬ই সেপ্টেম্বর রাতেও সোনিয়ার উপর তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন নির্যাতন করেন। সকালে সোনিয়ার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন তাদেরকে জানান সোনিয়া আত্মহত্যা করেছে। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সোনিয়ার ঝুলন্ত লাশ দেখত পায়। শশুর বাড়ির লোকজনের দাবি সে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা দিয়ে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
এঘটনায় নিহতের মা লাকী আক্তার তার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে মর্মে আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তের ভার দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। সেই সাথে আদালত লাশ পুনরায় উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নী, ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা ও নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নী বলেন, 'কোর্টের নির্দেশে লাশটি কবর থেকে ময়নাতদন্তের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতে তুলে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।'
ইত্তেফাক/এসএস
