লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী ও ছোটবোনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. একেএম আবুল কাশেম এ রায় প্রদান করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলো, রামগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ মুন্সির ছেলে ওসমান গনি (৪৫) ও তার শালিকা নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের ডা. মমিন উল্লাহর মেয়ে তাছলিমা আক্তার।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্র জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ওসমান গনির সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে তার শ্যালিকা তাছলিমা আক্তার রুমার পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিলো।
এর জের ধরে ২০০৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাত দুইটার দিকে ডা. ফেরদৌসী বেগমকে (৩৫) তার স্বামী ওসমান গনি ও ছোট বোন তাছলিমা আক্তার পরিকল্পিভাবে হত্যা করে বাড়ির পাশের পুকুরে লাশ ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৪ আগষ্ট ফেরদৌসী বেগমের বাবা ডা. মোহাম্মদ মমিন উল্লাহ বাদী হয়ে ডা. ফেরদৌসীর স্বামীকে আসামী করে রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্তে হত্যার প্রকৃত রহস্য উম্মোচিত হয়। এ মামলায় ১২জনের দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানী শেষে বুধবার আদালত ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে স্বামী ওসমান গনি ও ছোট বোন তাছলিমা আক্তার এর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়াও ওসমান গনির এক লাখ টাকা ও তাছলিমা আক্তারের ২৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের (পিপি) জসিম উদ্দিন জানান, স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী ওসমান গণির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং হত্যাকােণ্ডে সহযোগিতা করায় তার শ্যালিকা তাছলিমা আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করেন আদালত।
ইত্তেফাক/এএন
