নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন বাঁচান তারা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:৪২

টেবিল টার্ন লেডার (যান্ত্রিক মই) দিয়ে এফআর টাওয়ারের আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছিলেন ফায়ারম্যান সোহেল রানা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাত্ লেডারের একটি অংশ নিচে নেমে আসে। লেডারের ভাঁজের ভিতরে এক পা চলে যায় ফায়ারম্যান সোহেল রানার। সোহেল রানাকে উদ্ধার করে সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। তার পায়ে দু’দফা অস্ত্রোপচার হয়েছে, শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোহেল রানার মতোই উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের তিনজন স্টেশন অফিসার শহীদুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ ও স্টেশন অফিসার উদ্দীপন। এরা প্রত্যেকেই নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছিলেন।

ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেরা মারাত্মকভাবে আহত হলেও কোনো আফসোস নেই তাদের। বরং চোখের সামনে অনেককে লাফ দিয়ে জীবন দিতে দেখে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্টেশন অফিসার শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি হাতজোড় করে তাদের অনুরোধ করেছিলাম। চিত্কার করে বলছিলাম, আসছি আমরা। একটু অপেক্ষা করুন। লাফ দিবেন না।’ এরপরও চোখের সামনে তারা ভবন থেকে লাফ দেন।

ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার ও অগ্নি নির্বাপণের কাজ চালাতে গিয়ে আগুনের তীব্রতায় এক পর্যায়ে পিছু হটতে বাধ্য হন। এরপরে সিদ্ধান্ত নেন আগে আগুন নিয়ন্ত্রণের। তখন দুটি মইয়ের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণের পর আরেকটি মই দিয়ে আটকে পড়াদের নামিয়ে আনা শুরু করেন শহীদুল, হাবিবুল্লাহ, উদ্দীপন ও ফায়ারম্যান সোহাগ চন্দ্র কর্মকার। আটকে পড়াদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা ছিল তাদের। উঁচু ভবন থেকে নামিয়ে আনার সময় তাদের সাহস যোগাচ্ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা। বুকে জড়িয়ে ধরে সাহস দিয়ে আটকে পড়াদের নিচে নামিয়ে আনেন।

শহীদুল ইসলাম বলেন, আটকে পড়াদের বারবার আশ্বস্ত করলেও একজন তার কথা না শুনে লাফ দেন উঁচু ওই ভবন থেকে। দড়ি বেয়েও নামতে চান দুই একজন। অপেক্ষা করলে হয়ত তারাও বাঁচতে পারতেন। বেশি খারাপ লেগেছে প্রথমে যে লোকটা লাফ দিয়েছে তার জন্য। ওই লোকটাকে তখন আমি মই দিয়েছিলাম। আমি তাকে বারবার চিত্কার করে বলছিলাম, ভাই আপনি লাফ দিয়েন না। ওই লোকটা আমার কথা না শুনে লাফ দিয়েছে। খুবই খারা লাগছে তার জন্য। একজন গর্ভবতী নারী কান্না করছিলেন আর বলছিলেন, আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান। আমি মারা যাই আমার পেটের বাচ্চাটাকে বাঁচান। আমি উনার হাত ধরে বললাম, আমি মারা যাব কিন্তু আপনাকে উদ্ধার করব। আমি তাকে নিরাপদে নামিয়ে আনতে পেরেছি।

স্টেশন অফিসার খন্দকার আব্দুল জলিল বলেন, মানুষগুলোকে যদি বাঁচাতে পারতাম, তাহলে অনেকটা শান্তি পেতাম। নিজেরাই আফসোস করছি। চোখের সামনে ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আমরা বারবার চিত্কার করছি।