চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি), পাহাড়তলী ও কদমতলীতে বিশাল ডালপালা ছড়িয়ে থাকা প্রায় শতবর্ষী গাছগুলো নিরাপদ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবছরই চৈত্র-বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ও ঝড়বৃষ্টিতে সিআরবি, কদমতলী ও পাহাড়তলী এলাকায় গাছ উপড়ে পড়া ও বিশাল বিশাল ডাল ভেঙ্গে পড়ার ঘটনা ঘটছে।
তা সত্ত্বেও পহেলা বৈশাখ ও নানা উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ সিআরবি’র আকাশ ঢেকে দেওয়া রেইনট্রি (ফুলকড়ই), গর্জন ইত্যাদি গাছের শীতল ছায়ায় সমবেত হচ্ছেন। দৃষ্টিনন্দন এইসব বৃক্ষরাজি প্রতিদিনই সকাল-বিকালে হাতছানি দিয়ে ডাকে প্রকৃতিপ্রেমি অগণিত মানুষকে।
শুকনো ডালপালা সংগ্রহ করতে আসা মানুষেরা কর্তৃপক্ষের আগোচরে শতবর্ষী বৃক্ষের ক্ষতি করে। আবার প্রতিবছর বৃষ্টিতে গাছের গুঁড়ি থেকে মাটি ধুয়ে সরে যাওয়ার ব্যাপারে অনেক সময় কর্তৃপক্ষকে সচেতন দেখা যায় না। শিকড় ধরে রাখার মাটি হালকা হয়ে নগরীতে প্রাচীণ বৃক্ষ উপড়ে পড়ার ঘটনা প্রতিবছরই ঘটছে।
সিআরবি-পাহাড়তলীর শতবর্ষী বৃক্ষরা সজীব ডালপালা নিয়ে মাটিতে দৃঢ় শিকড়ে দাঁড়িয়ে আছে এই গ্যারান্টিই দাবি করছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিবেশবিদগণ। সেই সাথে তাদের দাবি গাছ উপড়ে ও ডাল ভেঙ্গে যেনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে।
পাল্টা প্রশ্ন উঠছে জননিরাপত্তার বিপরীতে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে সিআরবি’র পুরনো মূল্যবান গাছগুলোই বা কতোটা নিরাপদ। এই প্রশ্ন উত্থাপন করে নগরীর পরিবেশবাদী নেতা শরিক চৌহান বলেন, সিআরবি আর পাহাড়তলীর গাছপালা চট্টগ্রামের পরিবেশকে আজও শীতল ও স্বাস্থ্যকর করে রেখেছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ সিআরবি চত্বর, পাহাড়তলী ও কদমতলীর সব ধরনের বৃক্ষ রক্ষণাবেক্ষণে তত্পর। মরা ডালপালা নিয়মিত কেটে গাছগুলোকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এইসব গাছপালা যেনো ধ্বংস না হয় সেজন্য বৃক্ষবিরোধী তত্পরতা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সকল মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, সিআরবি এলাকায় প্রায় ৫০/৬০টি বড় গাছ রয়েছে। তার মধ্যে রেইনট্রি ও গর্জন প্রজাতির ৩০টির মতো শতবর্ষী গাছ রয়েছে। তিনি জানান, বড় ধরনের ঝড়-বাতাস ছাড়া এসব গাছ বা গাছের ডালপালা ভেঙ্গে পড়ার কোনো আশংকা বর্তমানে নেই। নগরীর পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এসব গাছ কাটা হবে না এবং আরো গাছ লাগানো হবে। পাহাড়তলীতেই বর্তমানে রেলওয়ের পরিচর্যায় আছে ৭০০ ছোট বড় বৃক্ষ। এগুলো রেইনট্রি, সেগুন, গর্জন ও মেহগনি প্রজাতির। সিআরবি ও পাহাড়তলীর গাছগুলো বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর অক্সিজেনের অন্যতম উত্স। এইসব গাছ কেটে ফেলো হলে নগরীর তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে আরো ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। সেই সাথে নগরীর বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে। পরিবেশবান্ধব এইসব গাছপালা রক্ষায় তিনি সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।
