প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজউক না দেখে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় কেন? এটা দায়িত্বহীনতার পরিচয়। নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে সবার বিল্ডিং কোড মেনেই ভবন নির্মাণ করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সভায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিদুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। অগ্নিদুর্ঘটনাসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ভবন মালিক ও ব্যবহারকারীদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাসমূহের কঠোর নজরদারি বাড়ানোসহ জনসচেতনতা সৃষ্টির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অহেতুক জনতা-মিডিয়ার ভিড়ের কারণে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যখনই কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত করা সবচেয়ে জরুরি; কিন্তু কিছু উত্সুক জনতা ও মিডিয়া অহেতুক ভিড় জমিয়ে বনানীর অগ্নিকাণ্ডের সময় উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে। এটা কাম্য নয়। তাই সবার এ ব্যাপারে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। উদ্ধার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলন অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে। যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে আটটি টিম গঠন করবে আওয়ামী লীগ। দলের প্রেসিডিয়াম, উপদেষ্টামণ্ডলী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমসমূহ আটটি সাংগঠনিক বিভাগের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও গতিশীল করবে। টিমে নেতৃত্ব দিবেন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। শিগগিরই এই ৮টি কমিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফর করবে। আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে।
সূত্র জানায়, চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ইন্ধন দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে যে সকল মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতা সংগঠনের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন না তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিবেদন তৈরি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকায় সংগঠন শক্তিশালী দেখতে চাই। এ সময় তিনি রাজধানীর থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গ করতে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোকে সম্মেলনের মাধ্যমে শক্তিশালী করারও নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চক্রান্ত এখনো আছে। কোনো কিছু হলেই তারা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপায়। অথচ বড়ো যন্ত্রপাতি, মই প্রদানসহ ফায়ার সার্ভিসকে শক্তিশালী আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে। বনানী দুর্ঘটনার পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাশ্রমী শিক্ষার্থীদের সাহসী ও কার্যকরী ভূমিকার জন্য সভার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সভার শুরুতেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বনানী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সংঘটিত পবিত্র জুম্মার দিনে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন এবং প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। শেখ হাসিনা নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন-এর প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, কাজী জাফরউল্লাহ, সাহারা খাতুন এমপি, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, কর্নেল (অব) ফারুক খান এমপি, রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
