রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফ আর (ফারুক রূপায়ন) টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড এটাই প্রথম নয়। আট বছর আগেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল ভবনটিতে। ২০০৮ সালের ৩১ আগস্ট এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছিলেন, গাড়ির সিএনজি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক করে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কারো প্রাণহানি না হলেও আতঙ্কিত হয়ে নামতে গিয়ে আহত হন ২১ জন। এ ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি ৭ দফা সুপারিশ জমা দেয়। কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবনে আগুন প্রতিরোধে করণীয় কোনো নির্দেশনাই মানা হয়নি। গত ৮ বছরে তিন বার ভবন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে নোটিশও দেয়া হয়। ওই নোটিশে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু তা মানেননি ভবন কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয়ে জানা যায়।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং) সিদ্দিক মো. জুলফিকার আহমেদ বলেন, এফ আর টাওয়ারে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ঢাকা মেট্টো) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, ভবনটি অগ্নি নিরাপত্তার জন্য নূন্যতম কোনো সিস্টেম নেই। যে লিফট রয়েছে সেটিও ছোট, সিঁড়ি রয়েছে দুই ফুট আর চার ফুটের। জরুরি বের হওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এক ভবনের সাথে আরেক ভবন লাগানো অবস্থায় রয়েছে, ফলে বাকি ভবনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তিনি বলেন, আট বছর আগে এই ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ অনুযায়ী কোনো পরিবর্তন আসেনি ভবনে। সামান্য এক্সিটিংগুইসার পর্যন্ত নেই এই ভবনে। যেখানে প্রতি ফ্লোরে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র থাকা দরকার। এই ধরনের ভবনে সাধারণত জরুরি বের হওয়ার জন্য পথ থাকে সেটিও নেই এখানে।
