ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় পাঁচ হিন্দু পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমাজচ্যুত করা ওই পরিবারগুলো হলো, উপজেলার আমোদাবাদ গ্রামের জীবন চন্দ্র সাহা, নারায়ণ দাস, সুনীল দাস, শ্রীধন দাস ও সুখন দাস। ওই সব পরিবারের লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া এবং তাদের বাড়িতে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছে মহল্লার লোকজনকে। এতে ওই পরিবারগুলো মানসিক অশান্তি এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অঘটন ঘটার আশঙ্কা করছে ওই পরিবারের সদস্যরা। ওই গ্রামের দাস ও সাহা সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বিয়ে পরবর্তী ডিভোর্সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে জীবন চন্দ্র সাহা বুধবার ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শামছুজ্জামান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন তরফদার বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রাম পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইউএনও’র নির্দেশের পর দুইদিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত কালিপূজায় ওই পরিবারগুলোকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে জীবন সাহার বড় ছেলে জনি সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘প্রায় আড়াই বছর আগে আমাদেরকে সমাজচ্যুত করে দাস সম্প্রদায়ের লোকজন। এখন আবার আমাদের বাড়িতে লোকজন আসায় তাদেরকেও সমাজচ্যুত করা হয়েছে। শৈলেস দাস লোকজনকে আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছে।’
আমোদাবাদ গ্রামের হিন্দু সমাজের নেতা সৈলেন দাস বলেন, ‘জীবন সাহার ছেলে গোবিন্দ সাহা, দাস সম্প্রদায়ের মেয়েকে বিয়ে করে ডিভোর্স দেয়ায় তার পরিবারের সঙ্গে দাস সম্প্রদায়ের লোকজন কথা বলে না। সমাজের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জীবন সাহার বাড়িতে যাওয়ায় ওই চার পরিবারের সঙ্গে চলাফেলা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শামছুজ্জামান বলেন, ‘সবাইকে বলে এসেছি নিজেদের মধ্যে সমস্যা সমাধান করে নেয়ার জন্য। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ বিষয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। যদি তিনি সমাধান না করতে পারেন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
