বৃহস্পতিবার বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর হাত থেকে যে যেভাবে পেরেছে বাঁচার চেষ্টা করেছে। সবাই সফল হতে না পারলেও অনেকেই বেঁচেছে। এর মধ্যে ভবনটির ১০তলা থেকে একটি অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বকুলসহ ৩০ জনের বেঁচে যাওয়ার শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে। ফ্যানের লোহা ও ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে ১০ তলার বাথরুমের জানালার গ্রিল ও কাঁচ ভেঙে পাশের ভবনের গ্রিল ভাঙার চেষ্টা চালান। না পেরে ভবনের নিচে থাকা তার সহকর্মীদের সহযোগিতায় পাশের ভবনে লোক পাঠিয়ে সেখানে বহু কষ্টে গ্রিল ভাঙা হয়। এর পর একে একে সহকর্মীদের নিয়ে পাশের ভবনে যেতে সক্ষম হন বকুলসহ অন্যরা। ওই কর্মকর্তার কানাডা প্রবাসী ভাই ফরিদ আহমেদ এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
এরপর গতকাল শরীফুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইত্তেফাক। বকুল ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আমরা টেকনোলজিস-এর প্রশাসন (ফাইন্যান্স) বিভাগের প্রধান। ভবনের ১০তলা থেকে বেরিয়ে আসার রুদ্ধশ্বাস বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আর ১০/১৫ মিনিট দেরি হলে আমাদের ৩০ জনের কেউই হয়তো বাঁচতাম না। ঘটনার পর আজ (গতকাল শুক্রবার) ওই ভবনে গিয়ে দেখি, আমাদের ফ্লোরটির সব পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, হঠাত্ আওয়াজ শুনে জানালার পর্দা সরিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখি বহু মানুষ। দেখি আমাদের নিচের ফ্লোর থেকে ধোঁয়া উঠছে। এরই মধ্যে পাশের ভবনে অবস্থিত আমাদের একই কোম্পানির সহকর্মীরা ফোন দিয়ে বললো, আগুন তোমাদের ফ্লোরে আসতেছে। উপরে চলে যাও, নইলে বাঁচবা না। উপরে যাওয়ার জন্য সিঁড়ির দিকে এগিয়ে দেখি ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। দুই তিন বার ট্রাই করলাম, পারলাম না।
দুই তিনজন সহকর্মীকে নিয়ে ফ্যানের লোহা ও ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে বাথরুমের জানালা ও গ্রিল ভাঙার চেষ্টা করলাম। জানালার গা ঘেঁষেই পাশের ভবন। সেই ভবনেও একটা জানালা আছে। যদিও সেটা পুরোপুরি এই জানালার মুখোমুখি না। তবে ভাঙতে পারলে চলে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু পারছি না। সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছে। ওদিকে রুমে তাপ বাড়ছে। যা করার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই করতে হবে। এরপর বহু চেষ্টায় আমাদের গ্রিল ভাঙলাম। পাশের ভবনের গ্রিল ভাঙা আর সম্ভব হচ্ছে না। এরপর নিচে অপেক্ষমাণ আমাদের সহকর্মীদের বললাম পাশের ভবনে লোক পাঠিয়ে ওই গ্রিলটি ভাঙার জন্য। তারা চার/পাঁচজন লোক পাঠাল। বহু কষ্টে ওই গ্রিল ও জানালার কাঁচ ভাঙা সম্ভব হয়। এরপর যে সামান্য জায়গা তৈরি হলো ওখান দিয়ে বের হয়ে পা এগিয়ে দেয় একেকজন আর অন্যপাশ থেকে ধরে তাদের পাশে ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে প্রায় ৩০ জনের সবাই অক্ষত অবস্থায় বের হতে পারলাম।
