সোহরাওয়ার্দীতে জরায়ু মুখের ক্যান্সার বিষয়ক সচেতনতা সভা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:১৬

মরণব্যাধি ক্যান্সার! ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষটিই কেবল মৃত্যুবরণ করেন না, মানুষটির পরিবারও সর্বশান্ত হয় এর চিকিৎসা ব্যায় মেটাতে গিয়ে।

নানা ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে জরায়ু মুখের ক্যান্সার অন্যতম। প্রতি বছর জরায়ু মুখের ক্যান্সারে নতুনভাবে আক্রান্ত হন প্রায় ১২,০০০ (বার হাজার) মা। আর এটি মহিলাদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ২য় প্রধান কারণ। তবে জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রায় শতভাগ এড়িয়ে চলা সম্ভব।

এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রায় সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজসহ জেলা এমনকি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চলছে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার পূর্ববর্তী রোগ নির্ণয় পরীক্ষা, যা ভিআইএ নামে পরিচিত। এই ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড জরায়ুর মুখে লাগিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০৯ সালের শেষ দিক থেকে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত চলছে এই ভিআইএ স্ক্রিনিং পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ঘাতকব্যাধি জরায়ু মুখের ক্যান্সার থেকে বাঁচার জন্য হাসপাতালের ভিআইএ সেন্টারে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

গতকাল ২৯ জানুয়ারি রবিবার দুপুর ১২ টায় হাসপাতালের গাইনি বিভাগের আয়োজনে জরায়ু মুখের ক্যান্সার বিষয়ক এক সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ ফাতেমা আশরাফ, প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল অধ্যাপক ডাঃ শাহাদৎ হোসেন, বিশেষ অতিথি ডাঃ কে.এম. মামুন মোর্শেদ, যিনি উক্ত হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের দায়িত্বে আছেন।

এই বিষয়ে মূখ্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকদ্বয় ডাঃ আফজালুন্নেছা এবং ডাঃ মুনিরা ফেরদৌস। ভিআইএ সেন্টারের কর্মকা- তুলে ধরেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনালী রানী ম-ল। ৩০ বছর বয়সী সকল বিবাহিত নারী অথবা যাদের বিয়ের বয়স ১০ বছর পার হয়েছে তারা কোন সমস্যা ছাড়াই শুধুমাত্র ভিআইএ স্ক্রিনিংয়ের জন্য আসতে পারেন।

বক্তাগণ ভিআইএ পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জরায়ু মুখে ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়ার প্রায় ১০-১৫ বছর পূর্বে যে পরিবর্তন সৃষ্টি হয় তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব।

ডাঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, জরায়ু মুখের ক্যান্সার থেকে নিরাপদ থাকার জন্য জনসচেতনতার কোন বিকল্প নাই। অত্র হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ কে.এম. মামুন মোর্শেদ ভিআইএ কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন।

সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ফাতেমা আশরাফ তার বক্তব্যের মাধ্যমে সকলকে আহ্বান করেন নিজেদের জন্য এই পরীক্ষায় আসতে এবং অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে।

সকলকে সঙ্গে নিয়ে জরায়ুমুখের ক্যান্সারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে উক্ত সভার সমাপ্তি হয়।