গাজীপুরে ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৭, ১৮:৫৮

গাজীপুরে ধর্ষণ মামলায় চার্জগঠনের দিনই এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ জাহেদ মনসুর এ আদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মোঃ হুমায়ুন কবির (৩০), সে ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার দাদার গ্রামের মৃত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার শিকার মেয়েটির বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ এলাকার রোহা গ্রামে। তিনি গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি ও বসবাস করতেন। পরিচয়ের সূত্র ধরে হুমায়ুন তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল রাতে ভিকটিমের ভাড়া বাসায় এসে ধর্ষণ করে।

পরে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। ভিকটিম বারবার তাগিদ দিলেও হুমায়ুন তাকে বিয়ে করেনি। এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।

তারপরও হুমায়ুন ভিকটিমকে বিয়ে না করে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাতে থাকে। পরে ২০১৫ সালের ২৩ মে হুমায়ুনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ভিকটিম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার এসআই অজয় চক্রবর্তী গত বছর ৩১ ডিসেম্বর হুমায়ুন কবিরকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি ফজলুল কাদের জানান, মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এ মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল। বিচারকের সামনে আসামি নিজের দোষ স্বীকার করেছে। আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করায় এবং এ ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চার্জ গঠনের দিনই বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।

রায়ে বলা হয়, ধর্ষনের ফলে জন্ম লাভকারী কন্যা সন্তান (বর্তমান বয়স ১ বছর ৮ মাস) আসামি হুমায়ুন কবীরকে পিতা ও ভিকটিমকে মাতা হিসেবে পরিচয় প্রদান করতে পারবে।

কন্যা শিশুটির ভরণপোষণ বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র বহন করবে। রাষ্ট্র এই মর্মে ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে এবং প্রদেয় অর্থ ধর্ষক আসামি মো. হুমায়ুন কবির থেকে আদায় করে নিতে পারবে।

ইত্তেফাক/এএন/ইউবি