রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী খাদ্য কর্মকর্তা বাইরুল ইসলামকে (৩৬) বেধড়ক পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর মসজিদ মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (মহিলা শাখার) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং তার অধঃস্তন কর্মচারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
আহত খাদ্য কর্মকর্তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাজশাহী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত।
খাদ্য কর্মকর্তা বাইরুল ইসলাম অভিযোগে জানান, তার মেয়ে ফাহমিদা ইসলাম বিথি মসজিদ মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করার জন্য তিনি গত ২৮ জানুয়ারি সকালে মসজিদ মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। এরপর তিনি অধ্যক্ষ আবদুর রশিদের সঙ্গে দেখা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য ছাড়পত্র (টিসি) চান। কিন্তু অধ্যক্ষ তাকে টিসি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ নিয়ে অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ টিসি দেয়ার জন্য তার কাছে তিন হাজার ২০০ টাকা দাবি করেন। বাইরুল ইসলাম উক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ এবং তার অধঃস্তন কর্মচারীরা তাকে বেধড়ক পেটান। এ সময় তাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার ডান পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত করা হয়। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খাদ্য কর্মকর্তা বাইরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মশিউর রহমান মানিক জানান, আঘাতের কারণে রোগীর ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। এছাড়া পায়ে ঘা রয়েছে। না শুকালে অস্ত্রপচার সম্ভব হচ্ছে না। ডান পা ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাঠির আঘাত রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ বলেন, ‘বাইরুল ইসলামকে মারপিট করা হয়নি। তিনি আমার কার্যালয়ে এসে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় আমার অধঃস্তন কর্মচারীরা তাকে কার্যালয়ের বাইরে নেয়ার সময় তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন। আমরা তার চিকিৎসার ব্যয় বহনের প্রস্তাব দিয়েছি।’
খাদ্য কর্মকর্তা বাইরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসার কারণে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পরিনি। চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।’
ইত্তেফাক/এএন
