মুক্তিপণ না পেয়ে অবশেষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অপহরণের সাত মাস পর ফিরে এলেন মো. বশিরুল ইসলাম বশির। গত ২৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বশিরকে।
সুস্থ হয়ে বশির ইত্তেফাককে জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। সব জেনেও শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয় নি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের মোহাজেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. বশিরুল ইসলাম বশির (৩০) কে ২০১৬ সালের ১লা জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তার এলাকা হতে অপহরণ করা হয়। সেদিন দুইটি হাইয়েস গাড়িতে প্রায় ১৭/১৮জন লোক বশিরকে অপহরণ করে চোখ বেঁধে কোথায় নিয়ে গেল তা বশির বলতে পারেন না। তবে অপহরণকারীকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।
বশির আরো বলেন, চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলাধীন মো. খোশ মোহাম্মদের ছেলে মো. জিন্নুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গল শহরে আমের ব্যবসা করে আসছে। সেই সূত্রে বশির জিন্নুরের সঙ্গে আমের ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে লাখ টাকার লেনদেন শুরু হয়। এর বছর কয়েক পর জিন্নুর রহমান র্যাবের হাতে ইয়াবাসহ ধরা পরলে তার সাজা হয়। তখন জিন্নুর সন্দেহ করতে শুরু করে বশিরকে। সেই থেকে বশিরের সঙ্গে জিন্নুরের বিরোধ।
জিন্নুর তার ভাই আতাউর রহমান ও জামরুল ইসলামসকে সঙ্গে নিয়ে আরো প্রায় ১৫/১৬ জনের সহযোগিতায় অস্ত্রের মুখে বশিরকে অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে।
ঘটনার পর বশিরের পরিবারের লোকজন চিহ্নিত অপহরণকারীদের নাম পরিচয়সহ শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ সে মামলা গ্রহণ করেনি। পরে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালতে মামলা নং-১৫২/২০১৬ইং (শ্রীমঙ্গল) দাখিল করা হয়। তথাপিও বশিরকে উদ্ধার বা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের কোনো পদক্ষেপ আজ পর্যন্ত নেয়নি পুলিশ।
এদিকে আদায়ের লক্ষ্যে অপহরণকারীরা ০১৭৫৭-৯৮৪১৯২, ০১৭৭০-৬৫৩১৫০ ও ০১৯৯৩-৯৯০৬৬২ নম্বর থেকে প্রতিনিয়ত বশিরের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে শেষমেষ গত ২৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় বশিরকে হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে আশিদ্রোণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনেন্দ্রপ্রসাদ বর্ধন জহরের সহযোগিতায় বশিরের পরিবারের লোকজন শায়েস্তাগঞ্জ থেকে বশিরকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল থানায় ও পরে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
এদিকে বশিরকে অপহরণের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ কে. এম. নজরুল বলেন, এ ধরণের কোনো অপহরণ মামলা তাদের থানায় নেই। অথচ বশিরের পরিবারের লোকজন বলছে, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাদের মামলা রুজু করেনি। বশিরকে অপহরণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তার পরিবারের সদস্যদের।
ইত্তেফাক/এএন
