অবৈধ দখলমুক্ত করার পর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শিশুদের বিনোদনের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি শ্যামলীতে অবস্থিত ‘শিশুমেলা’। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ বিনোদন কেন্দ্রটি অচিরেই খুলে দেওয়া হবে বলে দখলমুক্ত করার সময় মেয়র আনিসুল হক ঘোষণা দিলেও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।
মেয়রের উপস্থিতিতে গত বছরের ২৬ নভেম্বর বিনোদন কেন্দ্রটি থেকে ইজারাদারদের হটিয়ে পার্কটি বন্ধ করে দেয় উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক যুগ অবৈধ দখলে ছিল শিশুমেলা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বাদ দিয়ে এটি চালু করতে পূর্বের ইজারাদার মেসার্স ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উত্তর সিটি তিন/চার দফায় বৈঠক করেছে। পুরাতন বকেয়া পরিশোধ করে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এটি পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে পার্কটি চালু করার জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে উত্তর সিটি। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি।
সরেজমিন দেখা যায়, শিশুমেলার সামনের ফটকে উত্তর সিটির একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। আর সামনের রাস্তাসহ ফুটপাতের আশপাশে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী কাপড়ের দোকান বসেছে। এ সময় এলাকার শিশু-কিশোরদের বিনোদনের কথা চিন্তা করে শিশুমেলা খুলে দেওয়ার দাবি জানান অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর শ্যামলীর শিশু হাসপাতালের পাশে প্রায় ১ দশমিক ৪০ একর ভূমি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে শিশুপার্ক হিসেবে পরিচালনার জন্য তত্কালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুলশান-২-এ অবস্থিত একটি পার্ক ও শ্যামলীর একটি পার্কে নিজ খরচে আধুনিক খেলার যন্ত্রাংশ স্থাপন করার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এরপর ২০০২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মেসার্স ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেসের পক্ষে গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিএমএম রহমানের সঙ্গে এক লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৬ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের জন্য চুক্তি করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রতি বছর লিজ দেওয়া মোট অর্থের শতকরা ১০ ভাগ অর্থ বাড়তি হিসেবে সিটি করপোরেশনকে প্রদান করতে হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, পার্কটি দ্রুত চালু করার জন্য একটি কাউন্সিল কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কাজ ঠিক করা হবে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
