জো ক স

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ১৯:২৪

সত্যজিত্ বিশ্বাস

সহজ সমাধান

বাবা :রাস্তা পার হওয়ার সময় খুব সাবধান। যেভাবে বাস ছুটে আসে, কখন যে কার ওপর উঠে যায়, কোনো ঠিক নেই।

ছেলে :তাহলে কী করব?

বাবা :সবসময় আমার হাত ধরে রাস্তা পার হবি।  

ছেলে :কিন্তু যদি তোমার ওপর দিয়ে বাস উঠে যায়, তখন? 

বাবা :তখন আর হাত ধরে রাস্তা পার হতে হবে কেন? তখন তো ওভারব্রিজ দিয়ে পার হবি। 

এ লজ্জা কার?

ট্রাফিক সার্জেন্ট :২৭ বার বাসটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো—তোমাদের লজ্জা করে না?

বাস ড্রাইভার :এইডা কী কইলেন স্যার? আমাগো লজ্জা করব কেন?

ট্রাফিক সার্জেন্ট :তাহলে কার লজ্জা করবে?

বাস ড্রাইভার :কেন, ২৭ বার যার ওপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হইল তার।

লজ্জার কারণ

বিচারক :কী ব্যাপার, তোমাকে তো চেনা চেনা লাগছে। মাস খানেক আগে চুরি করে ধরা পড়েছিলে না?

চোর :জি।

বিচারক :আবার চুরি করে ধরা পড়েছ?

চোর :জি।

বিচারক :লজ্জা করে না তোমার?

চোর :জি, করে তো।

বিচারক :তাহলে চুরি করো, কেন?

চোর :চুরি করতে তো লজ্জা করে না।

বিচারক :তাহলে?

চোর :লজ্জা করে ধরা পড়তে।

লাইসেন্স না ‘লাই’ ‘সেন্স’

প্রথম বন্ধু :জানিস, আমাদের দেশের প্রায় অর্ধেক চালকেরই লাইসেন্স নেই।

দ্বিতীয় বন্ধু :আরে ধুর, ভুয়া কথা! সব চালকেরই লাইসেন্স আছে।

প্রথম বন্ধু :কী বলিস এসব?

দ্বিতীয় বন্ধু :ঠিকই বলি। অ্যাক্সিডেন্ট হলে দোষ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার ‘লাই’ ‘সেন্স’ সব চালকেরই আছে।

 

বেয়াড়া, বেলাজ, বেশরম বাস

ট্রাফিক সার্জেন্ট :বাসের রুট পারমিট দেওয়া আছে ‘ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ কিন্তু বাস চলে ‘সদরঘাট থেকে গাজীপুর’ ঘটনা কী?

বাস কন্ডাক্টর :আর বইলেন না স্যার, প্রতিটা দিন রাস্তায় বাইর হইয়া সবার সামনে এত থাবড়াই, এত পিডাই তবু কথা শোনে না। খালি ভুল পথে যায়।

ট্রাফিক সার্জেন্ট :কাকে থাবড়াও, ড্রাইভারকে? 

বাস কন্ডাক্টর :কী যে কন স্যার! ড্রাইভাররে থাবড়ামু কেন? 

ট্রাফিক সার্জেন্ট :তাহলে?

বাস কন্ডাক্টর :যে কথা শোনে না, তারে থাবড়াই।

ট্রাফিক সার্জেন্ট :কারে? 

বাস কন্ডাকটর :কারে আবার? এই বেয়াড়া, বেলাজ, বেশরম বাসটারে। 

 

কোনটা বড় আশ্চর্য?

—যে বাসটা অ্যাক্সিডেন্ট করল, সে বাসটার বিরুদ্ধে নাকি ২৭ বার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল!

—বাসটার নাকি এই রুটে চলার অনুমতিই ছিল না!

—এ সবকিছুর পরেও বাসটা নিয়মিত ঢাকায় চলছিল।  

 

সুখ নাকি শান্তি—কোনটা কাম্য

শিষ্য :গুরুদেব, কোনটা জীবনের কাম্য—সুখ নাকি শান্তি?

গুরুদেব :সুখের খোঁজে বিয়ে করেছিলাম আর শান্তির খোঁজে বনে এসেছি। এখন তুই-ই বুঝে নে।

 

চ্যালেঞ্জ

স্ত্রী :সুখে আছ তো, তাই টের পাও না। আমি হারিয়ে গেলে এমন একজন বউ তুমি হাজার খুঁজেও পাবে না।

স্বামী :একবার হারিয়ে গিয়েই দেখ না।

 

তুমি অনন্যা

স্ত্রী :তোমার সাত জন্মের ভাগ্য যে আমার সাথে বিয়ে হয়েছিল। আমার মতো এমন একজনকে খুঁজে দেখাও তো দেখি?

স্বামী :এটা ঠিকই বলেছ। তোমার মতো আরেকজন পাওয়া আগামী সাত কেন চৌদ্দ জন্মেও সম্ভব না।

 

আর যে পারা যায় না

স্বামী :হুজুর, আমি ডিভোর্স চাই।

বিচারক :কেন?

স্বামী :আমার স্ত্রী দিনদিন খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। হাতের কাছে যা পায়, তাই ছুঁড়ে মারে। 

বিচারক :কতদিন যাবত এ অবস্থা?

স্বামী :তা বছর পাঁচেক হবে।  

বিচারক :এতদিন পর ডিভোর্স চাইছেন যে?

স্বামী :আগে তো ফুলদানি ছুঁড়ে মারত আমার দিকে আর এখন... 

বিচারক :এখন কী? 

স্বামী :এখন আমাকেই ছুঁড়ে মারে ফুলদানির দিকে।

 

পারলে করে দেখাক তো

মেয়েটি :দুই বছর ধরে একটা চাকরি জোগাড় করতে পারছ না?  

ছেলেটি :না পারছি না। 

মেয়েটি :নেপোলিয়ান কী বলেছেন জানো?

ছেলেটি :নেপোলিয়ান তোমাকে কী বলেছে, আমি কী করে জানব?

মেয়েটি :নেপোলিয়ান বলেছে, পৃথিবীতে কোনো কাজই অসাধ্য নয়।  

ছেলেটি :তাই নাকি?

মেয়েটি :অবশ্যই তাই। 

ছেলেটি :তাহলে তোমার নেপোলিয়ানকে বলো তো, এত নীতি কথা না বলে আমাকে একটা চাকরি জোগাড় করে দেখাতে।   

 

সাহসী লোক

ঘোষক :সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর আন্দোলনে আমাদের লিডার হিসাবে একজন সাহসী লোক চাই। যে তার সারাটা জীবন শত শত মানুষের কাণ্ডারি হয়ে রাস্তার মাঝখানে বসে কাটিয়েছেন। আছেন, এমন কোন যোগ্য ব্যক্তি? থাকলে হাত তুলুন।   

একজন বাস ড্রাইভার হাত তুলল।

 

বিকল্প কে আছে?

একদিন জনৈক প্রার্থী এক ভোটারের কাছে গিয়ে—

প্রার্থী :ভাই, ভোটটা আমাকে দিয়েন।

ভোটার :কেন, আপনাকে ভোট দেব কেন?

প্রার্থী :কারণ, আমার কোনো বিকল্প নেই।

ভোটার :গতবার শিক্ষিত, ভদ্র, বিনয়ী এক প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেখেছি এলাকার কোনো উন্নতি হয়নি। তাই এবার ঠিক করেছি ভোট দেব সবচেয়ে খারাপ, বদ, গোঁয়ার এমন কোনো প্রার্থীকে।   

প্রার্থী :আবে হালায় কয় কী? এলাকায় আমার থিক্কা খারাপ, আমার বিকল্প কে আছে, শুনি?      

 

ধন্য বাদ

বিমান যাচ্ছে ঢাকা থেকে কক্সবাজার। হঠাত্ বিমানের ইঞ্জিন বিগড়াল। প্লেন নিচে নামতে নামতে সাগর ছুঁই ছুঁই করছে। এমন সময় পাইলটের কণ্ঠ ভেসে এলো, আপনারা প্লিজ মন দিয়ে কথা শুনুন। আমরা প্রায় কক্সবাজার এসে গেছি। উপকূল থেকে মাত্র আধামাইল দূরে আছি। আপনারা ইমার্জেন্সি জানালা দিয়ে এখনই সাগরে লাফ দিন। যারা সাঁতার জানেন, তাদের জন্য দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা হবে। সাঁতরে তীরে পৌঁছে যাবেন।      

—কয়েকজন চিত্কার দিয়ে উঠল, আর আমরা যারা সাঁতার জানি না, তাদের কী হবে?

—আমাদের কোম্পানির বিমানে ভ্রমণের জন্য শেষবারের মতো ধন্যবাদ তাদের।

 

এইটাই কি বেশি না?

প্রথম বন্ধু :এটা কেমন ব্যাপার হলো, বলো তো? চালু করার তিন মাসের মাথায় মুখ থুবড়ে পড়ল রিমোট কন্ট্রোল ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা।

দ্বিতীয় বন্ধু :ঢাকা শহরের মতো জায়গায় তিন মাস যে টিকছে এটাই কী বেশি না?

 

এটা কোনো সমস্যা হলো?

স্ত্রী :ভুরু কুঁচকে পেপারে কী এমন পড়ছ শুনি?

স্বামী :‘চালু করার তিন মাসের মাথায় থুবড়ে পড়ছে ঢাকার রিমোট কন্ট্রোল ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা’ এমন হলে দেশ চলবে কী করে?

স্ত্রী :কেন, এটা কোনো সমস্যা হলো?

স্বামী :কী বলো তুমি? এটা বিশাল সমস্যা, না?

স্ত্রী (টিভির রিমোট দিয়ে চ্যানেল চেঞ্জ করতে করতে) : মোটেও না। রিমোটের ব্যাটারিগুলো বদলে নিলেই তো হয়। 

 

সুবর্ণ সুযোগ

নিজের তুচ্ছ প্রাণের বিনিময়ে এলাকার গর্ব হতে চান? এলাকার উন্নয়নের অংশীদার হতে চান? আজই ছুটে আসুন বাসের সামনে। হয়ে যান এলাকার ওভার ব্রিজের কারণ।