সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ওয়াপদা ক্যানেলে বাঁশের সাঁকোতে চলছে ঝুঁকিতে পারাপার। এ ক্যানেলটিতে ব্রিজ না থাকায় পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, ভাঁড়ারা ইউনিয়নে ওয়াপদা ক্যানেলে দীর্ঘকাল ধরে বাঁশের সাঁকোতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সাঁকোর ওপারে অবস্থিত ভাড়ারা খাঁপাড়া ও ঘোড়াদহ খাঁপাড়ার অধিবাসীরা ক্যানেলটি পার হতে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
চরের এ দুটি গ্রামের স্কুল কলেজ, হাট বাজার ক্যানেলের সাঁকো পার হয়ে যেতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের।চরের ছাত্র-ছাত্রীদের বাঁশের সাঁকো পার হয়ে অ্যাসিয়াব স্কুল, খয়ের বাগান সরকারি প্রাইমারি স্কুল, দড়িভাউডাঙ্গা হাই স্কুল, ভাঁড়ারা হাই স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
প্রাইমারি শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা অভিভাবক ছাড়া এ সাঁকো পার হতে পারে না। যেদিন অভিভাবকরা ব্যস্ত থাকেন সেদিন তাদের স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠে না।
এ সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার মতো ঘটনা এখন প্রায় প্রতিদিনের ব্যাপার। ক’দিন আগে খাঁপাড়া গ্রামের আঞ্জুয়ার স্ত্রী শাহানা খাতুন আসিয়াব স্কুলে বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সাঁকো থেকে দু’জনই পড়ে যায়। শাহানা খাতুনকে গুরুতর অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ দুর্ঘটনার দিন কয়েক আগে খাঁপাড়ার আমিরুলের মেয়ে অ্যাসিয়াব স্কুলের ছাত্রী অনিমা তার চাচীর কোলে এ সাঁকো পার হতে গিয়ে দু’জনই পড়ে আহত হয়। এ রকম ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
অন্যদিকে এ সাঁকোর অপর প্রান্তের সরদারপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, খাঁপাড়ার কৃষকদের চরাঞ্চলের জমিতে এ ক্যানেল পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে।
চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে আবাদকৃত ধান, পেঁয়াজ, রসুন ও সবজি এ বাঁশের সাঁকো পার করেই অপর প্রান্তে নিয়ে আসা হয়। ফসল পারাপারেও প্রায় কৃষকরা দুর্ঘটনার শিকার হন।
এ ব্যাপারে ভাঁড়ারা খাঁপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, প্রায় ১৪০ মিটার ক্যানেলে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার তাদের জন্য খুব কষ্টকর হচ্ছে। গ্রামবাসী সবার বাড়ি থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে এ সাঁকো নির্মাণ করে দীর্ঘকাল ধরে পারাপার করে আসছে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের কোনো খবর নেন না।
একই গ্রামের কৃষক সাইদুল মৃধা জানিয়েছেন, তাদের পারাপারের এ সমস্যা ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যানও জানেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণে কেউ এগিয়ে আসছেন না। তিনি ক্যানেলটিতে ব্রিজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেফাক/এএন
