রান উত্সবের ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের জয়

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২১:২৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

উইকেট ছিল ব্যাটিংবান্ধব। তাতে রান উত্সবও হয়েছে বেশ। সঙ্গত কারণেই দুই দলের বোলাররাই ছিলেন রান দেওয়ায় উদারহস্ত। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রান মিছিলের ম্যাচে শেষ হাসি অবশ্য প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করেছে প্রাইম ব্যাংক। 

মিজানুর রহমান, ফজলে মাহমুদ রাব্বির জোড়া সেঞ্চুরির পর ইয়াসির আলী রাব্বির ব্যাটিং তাণ্ডবে দু্ই উইকেটে ৩৩০ রানের বিশাল স্কোর গড়েছিল ব্রাদার্স। এই ম্যাচটাই কিনা হেরে গেছে ব্রাদার্স! ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত প্রয়াসে প্রতিপক্ষের এমন সংগ্রহ কোনো সেঞ্চুরি ছাড়াই সাত বল আগে টপকে গেছে প্রাইম ব্যাংক। চার ব্যাটসম্যানের হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৮.৫ ওভারে পাঁচ উইকেটে ৩৩১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় এনামুল হক বিজয়ের দল। সাত ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের এটি ষষ্ঠ জয়। সমান ম্যাচে ব্রাদার্সের এটি পঞ্চম হার।  

টসে হেরে আগে ব্যাট করা ব্রাদার্স ১০ রানে জুনায়েদের (৭) উইকেট হারায়। দ্বিতীয় উইকেটে মিজানুর-ফজলে মাহমুদ ১৯৩ রানের জুটি গড়েন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে চতুর্থ সেঞ্চুরি করা মিজানুর ফিরেন ১০০ রান (৮ চার, ৫ ছয়) করে। অমন বড় রানের ভিত পেয়ে পরের সময়টুকু কাজে লাগিয়েছেন ফজলে মাহমুদ ও ইয়াসির আলী। ১২ ওভারে তারা দুজন যোগ করেছেন ১২৭ রান।

আগের দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া ফজলে মাহমুদ করেছেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ১২৩ বলে সেঞ্চুরি করলেও পরে তোপ দাগিয়েছেন এই বাঁহাতি। ১৪৭ বলে অপরাজিত ১৪৯ রান (১৩ চার, ৫ ছয়) করেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। তবে ব্রাদার্সের রানটা তিনশ ছাড়িয়ে ইয়াসির আলীর ৩৭ বলে ৬১ রানের (৬ চার, ৩ ছয়) ঝড়ো ইনিংসে। শেষ ১০ ওভারে ব্রাদার্স তুলেছিল ১২৩ রান। প্রাইম ব্যাংকের নাঈম হাসান একটি উইকেট নেন।

বিরাট টার্গেট পাড়ি দিতে নামা প্রাইম ব্যাংক সব সময়ই ম্যাচের লাগাম ধরে রেখেছিল। তাদের কখনোই চাপে ফেলতে পারেনি ব্রাদার্সের বোলাররা। ১৯ রানে ওপেনার সালমান হোসেন (১৩) ফিরলেও বিজয়ের ব্যাটে দুরন্ত শুরু পায় প্রাইম ব্যাংক। ১০টি চারে ৪৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে সুরটা ধরিয়ে দিয়ে গেছেন বিজয়।

তারপর অভিমন্নু ইশ্বরন, আল-আমিনের হাফ সেঞ্চুরিতে কক্ষপথে টিকে ছিল প্রাইম ব্যাংক। তারা ৭৯ রানের জুটি গড়েন তৃতীয় উইকেটে। আল-আমিন ৫২ রান করে ফিরলেও দলকে টেনে গেছেন অভিমন্নু। অলক কাপালির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১০১ রানের জুটি গড়েন তিনি। ইনিংসের ৪১তম ওভারে ফেরার আগে এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান ৯০ রান করেছেন। শেষ দিকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর ঝড়ো ইনিংসটা খেলেছেন অভিজ্ঞ অলক কাপালি। ৬৫ বলে অপরাজিত ৮২ রানের (৬ চার, ৩ ছয়) ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। নাহিদুল অপরাজিত ২৩ রান করেন। ব্রাদার্সের সাজেদুল তিনটি উইকেট পান। দল হারলেও ব্রাদার্সের ফজলে মাহমুদ ম্যাচ সেরা হন।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৫০ ওভারে ৩৩০/২ (ফজলে মাহমুদ ১৪৯*, মিজানুর ১০০, ইয়াসির আলী ৬১*, জুনায়েদ ৭; নাঈম হাসান ১/৬২)

প্রাইম ব্যাংক: ৪৮.৫ ওভারে ৩৩১/৫ (অভিমন্নু ৯০, অলক কাপালি ৮২*, বিজয় ৫৪, আল-আমিন জুনিয়র ৫২, নাহিদুল ২৩*, সালমান ১৩; সাজেদুল ৩/৭০, নাঈম জুনিয়র ১/৫২, শরীফ ১/৬০)

ফলাফল: প্রাইম ব্যাংক পাঁচ উইকেটে জয়ী।