যাতায়াত ও সম্পর্কের বাঁধনে যুক্ত হইল নূতন মাত্রা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৮

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিমান, রেল, পণ্যবাহী শিপ ও বাসের পর গত শুক্রবার চালু হইয়াছে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মূলে রহিয়াছে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষাসহ আরো অনেক বিষয়ের সাদৃশ্য। এই সম্পর্কের ভিত্তি সার্বভৌমত্ব, সমতা, বিশ্বাস, সমঝোতা এবং অংশীদারিত্ব। ইহারই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৭০ বত্সর পর গত ২৯ মার্চ ঢাকা ও কলকাতা হইতে যাত্রীবাহী দুইটি ক্রুজ শিপ ছাড়িয়া যাইবার ও আসিবার মধ্য দিয়া শুরু হইল বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রথম যাত্রীবাহী নৌ-চলাচল। বাংলাদেশে এই নৌ-রুট নির্ধারণ করা হইয়াছে নারায়ণগঞ্জের পাগলা হইতে বরিশাল-মোংলা-সুন্দরবন-আংটিহারা হইয়া ভারতের হলদিয়া দিয়া কলকাতা বন্দর অবধি। আংটিহারায় বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের প্রথা সম্পন্ন হইবে। অন্যদিকে নামখানা-হেমনগরে সম্পন্ন হইবে ভারতের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস।

ব্রিটিশ আমলে উভয় বাংলার মধ্যে নৌ-পথে মানুষ ও পণ্যের ছিল অবাধ যাতায়াত। দেশভাগের পর তত্কালীন পাকিস্তান আমলে দুইদেশের মধ্যে জলপথে পণ্যপরিবহন হইলেও বন্ধ হইয়া গিয়াছিল যাত্রী পরিবহন। বাংলাদেশ স্বাধীন হইবার পর ১৯৭২ সালে দুই দেশের মধ্যে নৌ-প্রটোকলটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু ১৯৮০ সালের ৪ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ইহার পর হইতে এই প্রটোকলটি বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসাবে পরিচালিত হইতেছিল। অতঃপর ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোস্টাল ও প্রটোকল রুটে যাত্রী ও ক্রুজ সার্ভিস চালুর জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়। ইহার পর ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর এই বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটর প্রসিডিউর (এসওপি) সই করিবার মাধ্যমে স্মারক ও এসওপি অনুযায়ী বাংলাদেশি ক্রুজ শিপ এমভি মধুমতি গত শুক্রবার ঢাকা হইতে কলকাতার উদ্দেশে রওয়ানা করিল। অন্যদিকে, ভারতের ক্রুজ শিপ আরভি বেঙ্গল গঙ্গা কলকাতা হইতে রওয়ানা করিয়াছে ঢাকার পথে। আমরা দেখিয়াছি, কয়েক দশক ধরিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়াছে। ১৯৯৯ সালে চালু হয় ঢাকা-কলকাতা আন্তঃদেশীয় বাস সার্ভিস। ২০০৮ সালের আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন হিসাবে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ চলাচল শুরু করে। ২০১৭ সালে চালু হইয়াছে খুলনা-কলকাতার মধ্যে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সপ্তাহে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট চলাচল করিতেছে যাহা নয়াদিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাইকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সহিত যুক্ত করিয়াছে।

বাংলাদেশ হইল নদী-বিধৌত ব-দ্বীপ। তাই বাংলার প্রকৃতি অবলোকন করিতে হইলে নদীপাড়ের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করিতেই হইবে। মধুমতি আর গঙ্গা নামের দুইটি ক্রুজ শিপ উভয় বাংলার সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের জন্য সেই সৌন্দর্য আচ্ছাদনের সবচাইতে বড় দৃষ্টান্ত হইয়া উঠিবে। তাহা ছাড়া মানুষে-মানুষে যত বেশি যোগাযোগ বৃদ্ধি পাইবে, ততই দৃঢ় হইবে সম্পর্কের বন্ধন। সেই দিক দিয়াও উভয় দেশের জন্য যাত্রীবাহী এই নৌ-চলাচলের গুরুত্ব অনেক।