চেরনোবিল: মৃত্যু, ধ্বংস এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রবাদসম উদাহরণ। কিন্তু এই নির্জন বিভীষিকাময় অঞ্চলই এবার রূপ পেতে যাচ্ছে সৌর শক্তি উৎপাদন ফার্মে। ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যখন চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে তখন তা হিরোশিমার চেয়েও প্রায় ৪০০ গুণ তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণ করে।
পরবর্তীকালে এটি ইতিহাসের ভয়াবহতম পারমাণবিক শক্তি প্ল্যান্ট দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এই দুর্যোগে সঙ্গে সঙ্গেই ৩০ জন নিহত হয় এবং তীব্র তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হয়ে ক্যান্সারে ভুগে মারা যায় কমপক্ষে ৪ হাজার ব্যক্তি। এখন পর্যন্ত সেখানে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশুরা জন্মায়। মানুষের ওপর প্রভাব ছাড়াও পারিপার্শ্বিক প্রকৃতিতে এর নৃশংসতা ছিলো সুদূরপ্রসারী।
IMG0
এই দুর্যোগ শুধুমাত্র ইউক্রেনেই নয়, পার্শ্ববর্তী বেলারুশ-রাশিয়ারও হাজার হাজার কিলোমিটারের প্রাকৃতিক পরিবেশে তীব্র তেজস্ক্রিয়তা ছিটিয়ে দেয়। যা সেখানকার পানি সরবরাহ, বৃষ্টি এমনকি বায়ুকেও সমানভাবে দূষিত করে দেয়। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, চেরনোবিলের পরিত্যক্ত এ বিস্তীর্ণাঞ্চল সৌর খামারের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। কারণ সেখানে অবকাঠামোর পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে উচ্চমাত্রার সূর্যালোক।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউক্রেন মানব বসতি ও চাষাবাদের জন্য পরিত্যক্ত প্রায় ১ হাজার বর্গমাইল এলাকাকে একটি এক্সক্লুসিভ সৌর শক্তি উৎপাদনের খামার বানাতে চাচ্ছে। যার জন্য ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/সেতু
