অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভারতে আটকে থাকা এক চীনা ব্যক্তি অবশেষে নিজের দেশে পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন। ওয়াং-শি নামের ওই ব্যক্তি ছিলেন চীনা সেনাবাহিনীর একজন সার্ভেয়ার। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ১৯৬৩ সালে ভুলক্রমে কীভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন এবং ভারত থেকে চীনে ফিরে যাওয়ার জন্য ভারত সরকার তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে অস্বীকার করে।
বিবিসির এই রিপোর্টের পর দিল্লিতে চীনা কূটনীতিকরা ওয়াং-শির সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।
সন্তান ও নাতনিকে নিয়ে শনিবার ওয়াং শি যখন চীনে তার নিজের এলাকা শিয়াংইয়াং প্রদেশে পৌঁছন তখন সেখানকার মানুষ ‘সৈনিককে স্বদেশে স্বাগতম’ ব্যানার নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায়।
চীনা সেনাবাহিনীর এই সাবেক সদস্য ওয়াং বলেন, ‘১৯৬৩ সালের জানুয়ারিতে চীনা সেনাবাহিনীর হয়ে রাস্তা বানানোর কাজে নিযুক্ত থাকাকালীন আমি ভুলবশত তিনি ভারতে ঢুকে পড়লে আমাকে গ্রেফতার করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার ক্যাম্প থেকে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, তখন রাস্তা হারিয়ে ফেলি। আমি ক্লান্ত আর ক্ষুধার্ত ছিলাম। আমি রেড ক্রসের একটা গাড়ি দেখে তাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম। তারা আমাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়।’
এর জন্য পরের ছয় বছর তাকে বিভিন্ন কারাগারে কাটাতে হয়। ১৯৬৯ সালে আদালত তার মুক্তির আদেশ দেয়।
জেল থেকে মুক্তি দিয়ে পুলিশ তাকে ভারতের মধ্যপ্রদেশে টিরোডি নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে ছেড়ে দেয়। তাকে এরপর ভারত থেকে বেরোতে দেয়া হয়নি। সেখানে তিনি স্থানীয় এক ভারতীয় নারীকে বিয়ে করেন।
৫৪ বছর পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন তাকে দেশ ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভারত ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদেরও ভারত সরকার ভারতীয় পাসপোর্ট দিয়েছে যদি তারা ওয়াং-শির সঙ্গে চীনে যেতে চায়।
কিন্তু তার স্ত্রী, যিনি ভারতীয় নাগরিক, তিনি ওয়াং-এর সঙ্গে যান নি। ওয়াং ভারতে ফেরত আসবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। বিবিসি
ইত্তেফাক/এমএইচ
