ইত্তেফাক রিপোর্ট
সমাজে নারী উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য সম্মাননা জানানো হলো তিন গুণীজনকে। তারা হলেন- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বেগম জেবুন্নেসা রাহমান।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে এই সম্মাননা জানানো হয়। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন সমিতির সভানেত্রী সিতারা আহসানউল্লাহ।
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, গত ৫০ থেকে ৭০ বছরে আমাদের দেশে যেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে, তার মধ্যে নারীর অগ্রগতি প্রধান। এখন আমরা দেখছি নারী তার মেধা ও পরিশ্রমের বলে নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। সবক্ষেত্রে তারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা সব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত; কিন্তু এটাই চিত্রের একমাত্র দিক নয়, এর বিপরীত দিকও আছে। নারীদের গৃহকর্মে আবদ্ধ করে রাখা প্রয়াস দেখতে পাই। এখনো শুনতে পাই, নারীদের ক্লাস ফোর ফাইভের উপরে পড়ানো উচিত নয়। এখনো সমাজে ছেলে ও মেয়েকে সমান দৃষ্টিতে দেখা হয় না এবং একই কর্মক্ষেত্রে একই কাজ করে পুরুষের চাইতে নারী কম মজুরি পায়। কাজেই একদিকে যেমন অগ্রগতি হয়েছে, অন্যদিকে যেসব জায়গায় প্রতিবন্ধকতা আছে সেটা পেরিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই জায়গায় নারী তার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পৌঁছেছে। কাজেই সামনে এগিয়ে যেতে হলে আরো সংগ্রামের প্রয়োজন হবে এবং সেক্ষেত্রে আমি মনে করি ক্রমশ পুরুষেরা নারীর পাশে এসে দাঁড়াবে। তাদের জীবনের সার্থকতা যেভাবে হয় তা করবে। আমরা জানি সমাজে নারী-পুরুষের ভারসাম্য দরকার। এজন্য মহিলা সমিতি নিরলস কাজ করছে। আর যারা সমাজে এধরনের কাজ করছে তাদের সম্মাননা জানানো হলো। তাদেরকে আমিও অভিনন্দন জানাই।
কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যুগে যুগে মানুষের পথপ্রদর্শক হিসেবে একজন করে দূত আবির্ভূত হতেন; তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী নারীদের জন্য দূত হয়ে এসেছেন। যার কারণে দেশে নারীদের যে উন্নয়ন অগ্রগতি হয়েছে তা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। নারীদের দারিদ্র্য দূরীকরণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য। সেটা তিনি করতে পেরেছেন।
তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীদের বের করে আনার জন্যই ১৯৯৩ সাল থেকে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া শুরু করি। এখন পুরস্কার নির্বাচন করতে গিয়ে দেখি নানা পেশায় নারীরা দক্ষহাতে কাজ করছে। তিনি ৯৬ সালে তৃণমূলের নারীদের উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, গত ২২-২৩ বছরে নারীদের তৃণমূলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব আছে আরেকজন মানুষকে তুলে আনার। সম্মাননা জানানোর জন্য তিনি মহিলা সমিতিকে ধন্যবাদ জানান।
বেগম জেবুন্নেসা রাহমান বলেন, নারী অধিকার বাস্তবায়নের যাত্রায় আইন সহায়তায় কাজ করেছি। এ পথে মহিলা সমিতি আরো এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা করি। সভাপতির বক্তব্যে সিতারা আহসানউল্লাহ বলেন, নারীর উন্নয়নে মহিলা সমিতি বিশেষ ভূমিকা রেখে চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে নারীদের উন্নয়নে কাজ করা গুণীজনদের সম্মাননা জানাতে পেরে ভালো লাগছে। তিনি বলেন, আমরা এগিয়ে যাব পুরুষের সহযোগিতায়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সচীন দেব বর্মনের গান পরিবেশন করেন শিল্পী ইকবাল ওয়াহিদ রহমান তানসেন। শুরুতে দেশের গান পরিবেশন করে সমিতির প্রথমিক বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানিয়া বখ্ত।
