রিকশাচালকের কাছ থেকে মিতুর সিম উদ্ধার

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৯:২১
 
চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন গৃহবধূ মাহমুদা খানম মিতুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর গত মঙ্গলবার আবদুল মান্নান নামে ভোলার লালমোহন উপজেলার এক রিকশাচালকের কাছ থেকে সিমটি উদ্ধার করা হয়। তবে মিতুর মোবাইল ফোনটি তার কাছে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মান্নান জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় রিকশা চালানোর সময় সে সিমটি কুড়িয়ে পেয়েছে। এটি যে খুন হওয়া মিতুর মোবাইলের সিম তা সে জানতো না। সিম উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পুলিশ রিকশাচালককে গ্রেফতার করেনি। 
 
এদিকে, সিম উদ্ধার হওয়াকে মামলার অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও রিকশাচালক আবদুল মান্নানকে গ্রেফতার করে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছে মিতুর পরিবার। মিতুর পিতা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, মিতুর ব্যবহূত সিমটি এই মামলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলামত। কারণ এই সিমেই মিথ্যা মেসেজ পাঠিয়ে মিতুকে বাসা থেকে বের করে হত্যা করা হয়েছিল। সিমটি সচল রয়েছে বলে আমরা পুলিশকে ইতিপূর্বে অবহিত করেছিলাম। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় রিপোর্টও হয়েছে। কিন্তু তারা (পুলিশ) কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সাধারণত কোনো সিম হারিয়ে গেলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু মিতুর সিমটি দীর্ঘদিন যাবত্ সচল ছিল। পুলিশ সেটি উদ্ধার করেনি। আবার যার হেফাজত থেকে সিম উদ্ধার করা হলো তাকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপি’র এডিসি মো. কামরুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, আবদুল মান্নান নামে ভোলার এক রিকশাচালকের কাছ থেকে সিমটি উদ্ধার করা হয়েছে। সিমটি উদ্ধার করা হলেও মিতুর মোবাইল ফোনটি তার কাছে পাওয়া যায়নি। ওই লোক আমাদের বলেছে, সে চট্টগ্রামে রিকশা চালাতো। নগরীর বাকলিয়ার ফুলকলি এলাকার রাস্তায় কয়েক মাস আগে সে সিমটি খুঁজে পেয়ে ব্যবহার করা শুরু করেছে। তবে কবে সে এটা পেয়েছিল তা নির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেনি। সিমটি দীর্ঘদিন উদ্ধার না হওয়া প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সিমটি কখনো বন্ধ আবার কখনো খোলা থাকতো। আবার অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে বেশ কয়েকবার। নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ভোলাসহ কয়েকটি স্থানে আমরা এর অবস্থান সনাক্ত করতে পেরেছি। সবশেষে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোলা থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। রিকশাচালককে গ্রেফতার না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় একজন রিকশাচালক কতখানি সচেতন সেটা আমাদের চিন্তা করে দেখতে হবে। একজনের সিম যে আরেকজন ব্যবহার করতে পারে না সেটা ওই রিকশাচালক জানতো না।     
 
গত বছরের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নির্মমভাবে খুন হন তত্কালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।
 
 
ইত্তেফাক/কাউছার