প্রায় মস্তিষ্কহীন শিশুও গুনতে পারছে, বিস্মিত চিকিত্সকরা

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:২৯
ইংল্যান্ডের কামব্রিয়ার ছোট্ট শহর অ্যাবেটাউন। এখানেই নোহকে নিয়ে থাকেন বাবা রব এবং মা শেলি। গর্ভাবস্থার তিন মাসে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি হতেই দুঃসংবাদটা জানতে পারেন রব-শেলি। চিকিৎসকরা জানান, স্পাইনা বাইফিডা নামক জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভস্থ শিশু। ক্রোমোজমের এই বিরল রোগটির কারণে ভ্রূণের মস্তিষ্ক হাউড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে ফ্লুইডের পরিমাণ।
 
আল্ট্রাসোনোগ্রাফির রিপোর্ট দেখে চমকে ওঠেন চিকিৎসকরাও। দেখা যায়, ভ্রূণের মস্তিষ্কের ৯৮ শতাংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, মাত্র দুই শতাংশ মস্তিষ্ক নিয়ে জন্ম হলেও জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মারা যেতে পারে শিশুটি। বেঁচে থাকলেও তার শরীরে দেখা দেবে নানান রকম অস্বাভাবিকতা। তাই রব ও শেলিকে গর্ভপাতের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
IMG0
 
কিন্তু ততদিনে চ্যালেঞ্জটা নিয়ে ফেলেছেন ওই দম্পতি। যে করেই হোক গর্ভস্থ সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাবেন তাঁরা। যত কঠিনই হোক লড়াই করবেন। ফলে মস্তিষ্কের নামমাত্র অংশ নিয়েই ২০১২ সালের ৬ মার্চ জন্ম নেয় নোহ ওয়াল।
 
তার জন্মটা যেমন ছিল অবাক করা,  বেড়ে ওঠাটাও তার থেকে কোনও অংশে কম নয়। মাত্র দুই শতাংশ ব্রেন নিয়েই তড়তড়িয়ে বেড়ে উঠেছে নোহ। এক থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা গুণতে পারে বছর চারেকের এই খুদে। মায়ের হাত ধরে ধরে দিব্যি লিখতে পারে নিজের নামও। শুধু তাই নয়, বিস্মিত চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ধীরে ধীরে নোহ’র করোটির মধ্যে বেড়ে উঠছে মস্তিষ্কের পরিমাণও। হয়তো ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করবে নোহ।
 
ছেলের চেষ্টা দেখে মাঝে-মধ্যেই অবাক হয়ে যান শেলি। ‘নোহ নিজের নাম উচ্চারণ করতে পারে। সংখ্যা গুণতে পারে। লিখতে পারে। আমি কখনও ভাবিনি ও এত কিছু শিখতে পারবে।’
 
এখনও হাঁটতে পারে না নোহ। হুইল চেয়ারই ভরসা। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, হাঁটানোর চেষ্টায় অস্ত্রোপচার সফল না হলে মৃত্যুও হতে পারে। কিন্তু আরও এক বার চ্যালেঞ্জ নিলেন রব-শেলি। এ বারও প্রমাণ করলেন মনের জোরের কাছে অনেক বাধাই হার মানে। সম্প্রতি শরীরের নিম্নাঙ্গে জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে নোহ’র। সুস্থও আছে সে। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নোহ আদৌ হাঁটা-চলা করতে পারবে কিনা তা বুঝতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
IMG1
 
কিন্তু ছেলের ভবিষ্যতে নিয়ে কী ভেবেছেন রব আর শেলি? তাঁদের ইচ্ছা, বড় হয়ে দমকল বাহিনীতে কাজ করবে নোহ। অথবা চিকিৎসক হয়ে অসুস্থ মানুষের সেবা করবে।
 
‘দেখিয়ে দিতে চাই কোনও কিছুই আসলে অসম্ভব নয়’ জোরালো গলায় আবারও নতুন চ্যালেঞ্জ নিলেন রব-শেলি। আনন্দবাজার প্রত্রিকা।
 
ইত্তেফাক/সেতু